৫৪/০. অধ্যায়ঃ
তাফসীর
তাকওয়া হলো আসল কল্যাণ: ঘরে দরজা দিয়ে প্রবেশের হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৯০২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৯০২
حديث الْبَرَاءِ رضي الله عنه، قَالَ: نَزَلَتْ هذِهِ الآيَةُ فِينَا كَانَتِ الأَنْصَارُ، إِذَا حَجُّوا فَجَاءُوا، لَمْ يَدْخُلُوا مِنْ قِبَلِ أَبْوَابِ بُيُوتِهِمْ، وَلكِنْ مِنْ ظُهُورِهَا فَجَاءَ رَجُلٌ [ص: 335] مِنَ الأَنْصَارِ فَدَخَلَ مِنْ قِبَلِ بَابِهِ، فَكَأَنَّهُ عُيِّرَ بِذلِكَ، فَنَزَلَتْ (وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ ظُهُورِهَا وَلكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقى وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا)
আবূ ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণিতঃ
এ আয়াতটি আমাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল। হজ্জ করে এসে আনসারগণ তাদের বাড়িতে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেন। এক আনসার ফিরে এসে তার বাড়ির সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে তাকে এ জন্য লজ্জা দেয়া হয়। তখনই নাযিল হয়ঃ“পশ্চাৎ দিক দিয়ে তোমাদের গৃহ-প্রবেশ করাতে কোন কল্যাণ নেই। বরং কল্যাণ আছে যে তাকওয়া অবলম্বন করে। সুতরাং তোমরা (সামনের) দরজা দিয়ে গৃহে প্রবেশ কর” (সূরা আল-বাক্বারাহ ২/১৮৯)।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৬ উমরাহ, অধ্যায় ১৮, হাঃ ১৮০৩; মুসলিম, পর্ব ৫৪ : তাফসীর, হাঃ ৩০২৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৯০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনসারদের একটি কাজের কথা বলা হয়েছে। তারা হজ্জ করে ফিরে এসে ঘরের সামনের দরজা দিয়ে ঢুকতেন না; পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ করতেন। পরে এক আনসার ব্যক্তি ঘরের সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে তাকে এ জন্য লজ্জা দেওয়া হয়। তখন আয়াত নাযিল হয় যে, পেছন দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করায় কোনো কল্যাণ নেই; বরং কল্যাণ হলো তাকওয়া অবলম্বন করা, আর ঘরে দরজা দিয়ে প্রবেশ করা। এই বর্ণনা আমাদের সহজ একটি কথা শেখায়: কোনো কাজ মানুষ অভ্যাস করে ফেললেই তা কল্যাণের মাপকাঠি হয়ে যায় না। হাদিসের মূল বিষয় হলো তাকওয়া, সঠিক পথ এবং অকারণ কঠিনতা ছেড়ে দেওয়া। ঘরে দরজা দিয়ে প্রবেশ করা এখানে সরল, পরিষ্কার ও নির্দেশিত পথের উদাহরণ হিসেবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের প্রচলিত রীতি সবসময় কল্যাণের মাপকাঠি নয়।
- আসল কল্যাণ তাকওয়া অবলম্বনের মধ্যে।
- অকারণ কঠিন পথ না নিয়ে সহজ ও সঠিক পথ গ্রহণ করা উচিত।
- কোনো ব্যক্তি সঠিক কাজ করলে তাকে লজ্জা দেওয়া ঠিক নয়।
