৫৩/৭. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি ন্যায় কাজের নির্দেশ দেয় অথচ সে নিজেই তা করে না এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে অথচ সে নিজেই তা করে, তার শাস্তি।
কথার সাথে কাজের মিল: সৎকাজের আদেশ আগে নিজের জীবনে
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৮৮২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৮৮২
حديث أُسَامَةَ قِيلَ لَهُ: لَوْ أَتَيْتَ فُلاَنًا فَكَلَّمْتَهُ قَالَ: إِنَّكُمْ لَتُرَوْنَ أَنِّي لاَ أُكَلِّمُهُ إِلاَّ أُسْمِعُكُمْ إِنِّي أُكَلِّمُهُ فِي السِّرِّ، دُونَ أَنْ أَفْتَحَ بَابًا لاَ أَكُونُ أَوَّلَ مَنْ فَتَحَهُ وَلاَ أَقُولُ لِرَجُلٍ، أَنْ كَانَ عَلَيَّ أَمِيرًا: إِنَّهُ خَيْرُ النَّاسِ، بَعْدَ شَيْءٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا: وَمَا سَمِعْتَهُ يَقُولُ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ: يُجَاءُ بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُلْقى فِي النَّارِ، فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُهُ فِي النَّارِ، فَيَدُورُ كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِرَحَاهُ، فَيَجْتَمِعُ أَهْلُ النَّارِ عَلَيْهِ، فَيَقُولُونَ: أَيْ فُلاَنُ مَا شَأْنُكَ أَلَيْسَ كُنْتَ [ص: 326] تَأْمُرُنَا بِالْمَعْرُوفِ، وَتَنْهى عَنِ الْمُنْكَرِ قَالَ: كُنْتُ آمُرُكُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَلاَ آتِيهِ، وَأَنْهَاكمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ
আবূ ওয়াইল (রহ.) হতে বর্ণিতঃ
উসামা (রাঃ)-কে বলা হল, কত ভাল হত! যদি আপনি ঐ ব্যক্তির (উসমান (রাঃ)-এর নিকট যেতেন এবং তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতেন। উত্তরে তিনি বললেন, আপনারা মনে করছেন যে আমি তাঁর সঙ্গে আপনাদেরকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলব। অথচ আমি তাঁর সঙ্গে (দাঙ্গা দমনের ব্যাপারে) গোপনে আলোচনা করছি, যেন আমি একটি দ্বার খুলে না বসি। আমি দ্বার উন্মুক্তকারীর প্রথম ব্যক্তি হতে চাই না। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট হতে কিছু শুনেছি, যার পরে আমি কোন ব্যক্তিকে- যিনি আমাদের আমীর নির্বাচিত হয়েছেন এ কারণে তিনি আমাদের সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি এ কথা বলতে পারি না। লোকেরা তাঁকে বলল, আপনি তাঁকে কী বলতে শুনেছেন? উসামাহ (রাঃ) বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, ক্বিয়ামাতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন আগুনে পুড়ে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। এ সময় সে ঘুরতে থাকবে যেমন গাধা তার চাকা নিয়ে তার চারপাশে ঘুরতে থাকে। তখন জাহান্নামবাসীরা তার নিকট একত্রিত হয়ে তাকে বলবে, হে অমুক ব্যক্তি! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি না আমাদেরকে সৎকাজের আদেশ করতে আর অন্যায়কাজ হতে নিষেধ করতে? সে বলবে, আমি তোমাদেরকে সৎকাজে আদেশ করতাম বটে, কিন্তু আমি তা করতাম না আর আমি তোমাদেরকে অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করতাম, অথচ আমিই তা করতাম।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৯; সৃষ্টির সূচনা, অধ্যায় ১০, হাঃ ৩২৬৭; মুসলিম, পৰ্ব ৫৩ : সংসারের প্রতি অনাসক্তি ও অন্তরের কোমলতা, অধ্যায় ৭, হাঃ ২৯৮৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কথার সাথে কাজের মিল। উসামা (রাঃ) প্রকাশ্যে নয়, গোপনে উপদেশ দেওয়ার কথা বলেছেন, যাতে ফিতনার দরজা না খোলে। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি ভয়াবহ বর্ণনা বলেন। কিয়ামতের দিন এমন এক ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, যে মানুষকে সৎকাজের আদেশ করত এবং অন্যায় থেকে নিষেধ করত; কিন্তু নিজে সৎকাজ করত না এবং নিজেই অন্যায় করত। এই হাদিস আমাদের শেখায়, দাওয়াত ও নসিহত শুধু মুখের বিষয় নয়। যে কথা মানুষকে বলা হয়, তা নিজের জীবনে আনার চেষ্টা থাকা দরকার। একই সঙ্গে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে উপদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা, গোপন নসিহত এবং দায়িত্বশীল আচরণের দিকও এখানে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যকে ভালো কাজের কথা বলার আগে নিজে তা মানার চেষ্টা করা দরকার।
- সৎকাজের আদেশ ও অন্যায় থেকে নিষেধ করার সঙ্গে ব্যক্তিগত আমল জরুরি।
- নেতাকে নসিহত করার ক্ষেত্রে ফিতনা এড়ানো এবং গোপন উপদেশ দেওয়া ভালো হতে পারে।
- মুখের দাওয়াত ও বাস্তব কাজের অমিল গুরুতর বিষয়।
