৫৩/৬. অধ্যায়ঃ
বাক সংযত করা।
জিহ্বা সংযম: না ভেবে কথা বলার ভয়াবহ পরিণতি
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৮৮১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৮৮১
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ، مَا يَتَبَيَّنُ فِيهَا، يَزِلُّ بِهَا فِي النَّارِ، أَبْعَدَ مِمَّا بَيْنَ الْمَشْرِقِ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয় বান্দা এমন কথা বলে যার পরিণাম সে চিন্তা করে না, অথচ এ কথার কারণে সে নিক্ষিপ্ত হবে জাহান্নামের এমন গভীরে যার দূরত্ব মাশরিক-এর দূরত্বের চেয়ে অধিক।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮১ : সদয় হওয়া, অধ্যায় ২৩, হাঃ ৬৪৭৭; মুসলিম, পর্ব ৫৩; সংসারের প্রতি অনাসক্তি ও অন্তরের কোমলতা, অধ্যায় ৬, হাঃ ২৯৮৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো জিহ্বা সংযম। মানুষ অনেক সময় কথা বলার আগে তার ফল নিয়ে ভাবে না। কথাটি ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কাছে তার পরিণাম বড় হতে পারে। হাদিসে বলা হয়েছে, বান্দা এমন কথা বলে যার পরিণাম সে চিন্তা করে না, অথচ সেই কথার কারণে সে জাহান্নামের গভীরে নিক্ষিপ্ত হতে পারে। তাই ইসলামে কথার গুরুত্ব অনেক। মুমিনের জন্য প্রয়োজন, কথা বলার আগে থেমে দেখা—এ কথা কি সত্য, দরকারি, ভালো এবং নিরাপদ? এই শিক্ষা আমাদের গীবত, অপবাদ, বিদ্রূপ, মিথ্যা কথা এবং কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। হাদিসটি ভয় দেখানোর জন্য নয়; বরং জাগিয়ে দেওয়ার জন্য, যাতে আমরা মুখের কথাকে হালকা মনে না করি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথা বলার আগে তার ফল নিয়ে ভাবা উচিত।
- না ভেবে বলা কথা মানুষকে বড় ক্ষতির দিকে নিতে পারে।
- জিহ্বা সংযম মুমিনের চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মিথ্যা, অপবাদ ও কষ্টদায়ক কথা থেকে দূরে থাকা দরকার।
