৫২/১৭. অধ্যায়ঃ
দাউস গোত্র যালখালাসার ইবাদত না করা পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে না।
কিয়ামতের আলামত: যুলখালাসাহ ও মূর্তিপূজায় ফিরে যাওয়ার সতর্কতা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৮৪১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৮৪১
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلْيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ عَلَى ذِي الْخَلَصَةِ وَذُو الْخَلَصَةِ طَاغِيَةُ دَوْسٍ الَّتِي كَانُوا يَعْبُدُونَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, ক্বিয়ামাত কায়িম হবে না, যতক্ষণ ‘যুলখালাসাহর’ পাশে দাওস গোত্রীয় রমণীদের নিতম্ব দোলায়িত না হবে।‘যুলখালাসাহ’ হলো দাওস গোত্রের একটি মূর্তি। জাহিলী যুগে তারা এর উপাসনা করত।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৯২: ফিতনা, অধ্যায় ২৩, হাঃ ৭১১৬; মুসলিম, পর্ব ৫২ : ফিতনা এবং তার অশুভ আলামতসমূহ, অধ্যায় ১৭, হাঃ ২৯০৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল কথা হলো কিয়ামতের আলামত ও মূর্তিপূজায় ফিরে যাওয়ার ভয়াবহতা। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কিয়ামত কায়িম হবে না, যতক্ষণ দাওস গোত্রের নারীরা যুলখালাসাহর পাশে নড়াচড়া করবে। হাদিসেই বলা হয়েছে, যুলখালাসাহ ছিল দাওস গোত্রের একটি মূর্তি, যা জাহিলী যুগে তারা পূজা করত। তাই এখানে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, তাওহীদ থেকে সরে গেলে মানুষ আবার পুরোনো ভুলে ফিরে যেতে পারে। এই বর্ণনা আমাদের নিজের ঈমান, আকীদা ও ইবাদতকে খাঁটি রাখার কথা মনে করায়। হাদিসটি কোনো নতুন গল্প যোগ করে না; শুধু জানায়, শেষ যুগে এমন কিছু ঘটবে যা একসময় জাহিলী সমাজে ছিল। তাই মুসলিমের কাজ হলো আল্লাহর ইবাদতে স্থির থাকা এবং শিরক থেকে দূরে থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওহীদ রক্ষা করা ঈমানের বড় দাবি।
- জাহিলী যুগের মূর্তিপূজা আবার ফিরে আসতে পারে—এটি একটি সতর্কতা।
- কিয়ামতের আলামত শুনে ভয় নয়, বরং নিজের আমল ঠিক করার চেষ্টা দরকার।
