৫০/১৭. অধ্যায়ঃ
কেউ তার সৎকর্ম দ্বারা জান্নাতে যাবে না বরং (যাবে) আল্লাহ তা'আলার রহমতে।
আমল নয়, আল্লাহর রহমত: মধ্যপন্থায় ইবাদতের হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭৯৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭৯৩
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَنْ يُنَجِّيَ أَحَدًا مِنْكُمْ عَمَلُهُ قَالُوا: وَلاَ أَنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: وَلاَ أَنَا إِلاَّ أَنْ يَتَغَمَّدَنِي اللهُ بِرَحْمَةٍ سَدِّدُوا
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কস্মিনকালেও তোমাদের কাউকে নিজের ‘আমাল নাজাত দেবে না। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আপনাকেও না? তিনি বললেনঃ আমাকেও না। তবে আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে রহমত দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। তোমারা যথারিথী ‘আমাল করে নৈকট্য লাভ কর। তোমরা সকালে, বিকালে এবং রাতের শেষভাগে আল্লাহ্র ইবাদাত কর। মধ্য পন্থা অবলম্বন কর। মধ্য পন্থা তোমাদেরকে লক্ষ্যে পোঁছাবে।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৮১ : সদয় হওয়া, অধ্যায় ১৮, হাঃ ৬৪৬৩; মুসলিম, পৰ্ব ৫০ : মুনাফিক ও তাদের হুকুম, অধ্যায় ১৭, হাঃ ২৮১৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তোমাদের কাউকে তার আমল নাজাত দেবে না। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, আপনাকেও না? তিনি বললেন, আমাকেও না; তবে আল্লাহ আমাকে রহমত দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। এরপর তিনি ঠিকভাবে আমল করা, নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা এবং সকাল, বিকাল ও রাতের শেষভাগে ইবাদতের কথা বলেছেন। এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য আছে। আমল করতে হবে, কিন্তু আমলের অহংকার করা যাবে না। নাজাতের জন্য আল্লাহর রহমত দরকার। একই সঙ্গে ইবাদতে মধ্যপন্থা রাখা দরকার, যেন মানুষ ক্লান্ত হয়ে সব ছেড়ে না দেয়। এই হাদিস দীন পালনে আশা, বিনয় ও ধারাবাহিকতার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নাজাতের জন্য আল্লাহর রহমত প্রয়োজন।
- আমল করতে হবে, কিন্তু আমলের অহংকার করা যাবে না।
- ইবাদতে মধ্যপন্থা ও ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ।
- সকাল, বিকাল ও রাতের শেষভাগে ইবাদতের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
