৪৯/৪. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা'আলার দয়ার প্রশস্ততা এবং তা তাঁর রাগকে ছাড়িয়ে গেছে।
আল্লাহর দয়া: মায়ের মমতার চেয়েও বিস্তৃত
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭৫১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭৫১
حديث عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْيٌ، فَإِذَا امْرَأَةٌ مِن السَّبْيِ قَدْ تَحْلُبُ ثَدْيَهَا، تَسْقِي إِذَا وَجَدَتْ صَبِيًّا فِي السَّبْيِ، أَخَذَتْهُ، فَأَلْصَقَتْهُ بِبَطْنِهَا وَأَرْضَعَتْهُ فَقَالَ لَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَرَوْنَ هذِهِ طَارِحَةً وَلَدَهَا فِي النَّارِ قلْنَا: لاَ وَهِيَ تَقْدِرُ عَلَى أَنْ لاَ تَطْرَحَهُ فَقَالَ: للهُ أَرْحَمُ بِعِبَادِهِ، مِنْ هذِهِ بِوَلَدِهَا
‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার নবী (ﷺ)-এর নিকট কিছু সংখ্যক বন্দী আসে। বন্দীদের মধ্যে একজন মহিলা ছিল। তার স্তন দুধে পূর্ণ ছিল। সে বন্দীদের মধ্যে কোন শিশু পেলে তাকে ধরে কোলে নিত এবং দুধ পান করাত। নবী (ﷺ) আমাদের বললেনঃ তোমরা কি মনে করো এ মহিলা তার সন্তানকে আগুনে ফেলে দিতে পারে? আমরা বললামঃ ফেলার ক্ষমতা রাখলে সে কখনো ফেলবে না।তারপর তিনি বললেনঃ এ মহিলাটি তার সন্তানের উপর যতটুকু দয়ালু, আল্লাহ তাঁর বান্দার উপর তদপেক্ষা অধিক দয়ালু।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৭৮: আদব-আচার, অধ্যায় ১৮, হাঃ ৫৯৯৯; মুসলিম, পর্ব ৪৯ : তাওবাহ, অধ্যায় ৪, হাঃ ২৭৫৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আল্লাহর দয়া। বন্দীদের মধ্যে এক নারী শিশুকে পেলে কোলে নিতেন এবং দুধ পান করাতেন। নবী صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, এই নারী কি তার সন্তানকে আগুনে ফেলতে পারে? তারা বললেন, সে পারলে কখনো ফেলবে না। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, এই নারী তার সন্তানের প্রতি যত দয়ালু, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি তার চেয়েও বেশি দয়ালু। হাদিসটি আমাদের কাছে আল্লাহর রহমতকে সহজ ভাষায় তুলে ধরে। মায়ের দয়া মানুষ সহজে বুঝতে পারে, তাই নবী صلى الله عليه وسلم সেই দৃশ্য দিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। তবে এই দয়ার আশা মানুষকে গুনাহে সাহসী করার জন্য নয়; বরং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার জন্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর দয়া মানুষের পরিচিত মমতার চেয়েও বেশি।
- মায়ের সন্তানের প্রতি ভালোবাসা আল্লাহর রহমত বোঝার একটি সহজ উদাহরণ।
- আল্লাহর রহমতের আশা মানুষকে তাঁর দিকে ফিরতে সাহায্য করে।
- আল্লাহর দয়া স্মরণ করলে হতাশা কমে এবং তাওবার আশা বাড়ে।
