৩৩/৪২. অধ্যায়ঃ
যে আল্লাহ তা'আলার বাণী সমুন্নত করার জন্য যুদ্ধ করে সে আল্লাহর রাস্তায় (যুদ্ধ করে)।
আল্লাহর পথে জিহাদ কোনটি: নিয়তই আসল মানদণ্ড
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৪৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৪৩
حديث أَبِي مُوسى رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: الرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلْمَغْنَمِ، وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلذِّكْرِ، وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُرَى مَكَانُهُ، فَمَنْ فِي سَبِيلِ اللهِ قَالَ: مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللهِ هِيَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, এক ব্যক্তি গনীমতের জন্য, এক ব্যক্তি প্রসিদ্ধ হওয়ার জন্য এবং এক ব্যক্তি বীরত্ব দেখানোর জন্য জিহাদে শরীক হলো। তাদের মধ্যে কে আল্লাহ্র পথে জিহাদ করল? তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্র কালিমা বুলন্দ থাকার উদ্দেশে যুদ্ধ করল, সে-ই আল্লাহ্র পথে জিহাদ করল।’
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১৫, হাঃ ২৮১০; মুসলিম, পৰ্ব ৩৩ ; ইমারাত বা নেতৃত্ব, অধ্যায় ৪২, হাঃ ১৯০৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জিহাদের নিয়ত খুব পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। একজন ব্যক্তি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জানতে চাইলেন, কেউ গনীমতের জন্য, কেউ প্রসিদ্ধ হওয়ার জন্য, আবার কেউ বীরত্ব দেখানোর জন্য লড়াই করে; এদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে? নবী صلى الله عليه وسلم উত্তর দিলেন, যে আল্লাহর কালিমা বুলন্দ থাকার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর পথে জিহাদ করে। তাই বাহ্যিক কাজ একই রকম দেখালেও উদ্দেশ্য এক নয়। এই হাদিস আমাদের শেখায়, ইসলামে কাজের আসল মূল্য নিয়তের সঙ্গে জড়িত। খ্যাতি, লাভ বা লোক দেখানো উদ্দেশ্য হলে তা আল্লাহর পথে হওয়ার দাবি করে না। মূল কীওয়ার্ড আল্লাহর পথে জিহাদ, আর এর ভিতরের শিক্ষা হলো নিয়ত, ইখলাস এবং আল্লাহর বাণীকে বড় মনে করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোন কাজের মর্যাদা তার উদ্দেশ্যের সঙ্গে জড়িত।
- গনীমত, খ্যাতি বা বীরত্ব আল্লাহর পথের মূল মানদণ্ড নয়।
- আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করাই এই হাদিসে সঠিক নিয়ত হিসেবে এসেছে।
- বাহ্যিক কাজ দেখেই মানুষের নিয়ত ঠিক করা যায় না।
