২৯/১০. অধ্যায়ঃ
হাদ জারি করাই হচ্ছে অপরাধীর জন্য কাফফারা।
বায়আতের শর্ত: গুনাহ থেকে বাঁচা ও আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিচার
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১১১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১১১
حديث عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رضي الله عنه، وَكَانَ شَهِدَ بَدْرًا، وَهُوَ أَحَدُ النُّقَبَاءِ لَيْلَةَ الْعَقَبَةِ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ، وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ: بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لاَ تُشْرِكُوا بِاللهِ شَيْئًا وَلاَ تَسْرِقُوا وَلاَ تَزْنُوا وَلاَ تَقْتُلُوا أَوْلاَدَكُمْ وَلاَ تَأْتَوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ، وَلاَ تَعْصُوا فِي مَعْرُوفٍ، فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللهِ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ، وَمَنْ أَصَابَ مِن ذَلِكَ شَيْئًا [ص: 191] ثُمَّ سَتَرَه اللهُ، فَهُوَ إِلَى اللهِ، إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ، وَإِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ فَبَايَعْنَاهُ عَلَى ذَلِكَ
উবাদাহ ইব্নুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর পাশে একজন সাহাবীর উপস্থিতিতে তিনি বলেনঃ তোমরা আমার নিকট এ মর্মে বায়‘আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহ্র সঙ্গে কোন কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করবে না এবং সৎকাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহ্র নিকট রয়েছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হলো এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহ্র ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মার্জনা করবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি প্রদান করবেন। আমরা এর উপর বায়‘আত গ্রহণ করলাম।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২, অধ্যায় ১১, হাঃ ১৮; মুসলিম, পর্ব ২৯: হুদূদ, অধ্যায় ১০, হাঃ ১৭০৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১১১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বায়আত নেন। তিনি বলেন, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, সন্তানদের হত্যা করবে না, মিথ্যা অপবাদ দেবে না এবং সৎকাজে অবাধ্য হবে না। যে এগুলো পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে। আর কেউ এর কোনো একটিতে লিপ্ত হয়ে দুনিয়াতে শাস্তি পেলে তা তার জন্য কাফফারা হবে। আর যদি আল্লাহ তা গোপন রাখেন, তবে বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন—তিনি চাইলে ক্ষমা করবেন, চাইলে শাস্তি দেবেন। হাদিসটি ঈমানি অঙ্গীকার, নৈতিক জীবন, শাস্তি ও আল্লাহর ক্ষমার বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিরক, চুরি, যিনা, সন্তান হত্যা ও অপবাদ থেকে বাঁচার অঙ্গীকার এসেছে।
- সৎকাজে অবাধ্য না হওয়াও বায়আতের অংশ।
- দুনিয়ার শাস্তি কোনো অপরাধের জন্য কাফফারা হতে পারে বলে হাদিসে এসেছে।
- গোপন গুনাহের ব্যাপার আল্লাহর ইচ্ছাধীন।
