২৯/৮. অধ্যায়ঃ
মদখোরের শাস্তি।
শরাব পানকারীর শাস্তি: আলী (রাঃ)-এর সতর্ক বিচারবোধ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১০৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১০৯
حديث عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، قَالَ: مَا كُنْتُ لاِقِيمَ حَدًّا عَلَى أَحَدٍ فَيمُوتَ، فَأَجِدَ فِي نَفْسِي، إِلاَّ صَاحِبَ الْخَمْرِ، فَإِنَّهُ لَوْ مَاتَ وَدَيْتُهُ؛ وَذلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَسُنَّهُ
আলী ইব্নু আবূ ত্বলিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি যদি কোন অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করি আর সে তাতে মরে যায় তবে কোন দুঃখ আসে না। কিন্তু শরাব পানকারী ব্যতীত। সে যদি মারা যায় তবে তার জন্য আমি দিয়াত দিয়ে থাকি। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ শাস্তির ব্যাপারে কোন সীমা নির্ধারণ করেননি।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৮৬ ; দণ্ডবিধি, অধ্যায় ৪, হাঃ ৬৭৭৮; মুসলিম, পর্ব ২৯: হুদূদ, অধ্যায় ৮, হাঃ ১৭০৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এসেছে। তিনি বলেন, কোনো অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পর সে মারা গেলে তাঁর মনে দুঃখ আসে না, শরাব পানকারী ছাড়া। শরাব পানকারী যদি শাস্তির কারণে মারা যায়, তবে তিনি তার জন্য দিয়াত দিতেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এ শাস্তির ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেননি। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সাহাবীরা দায়িত্ববোধ ও সতর্কতা রাখতেন। এখানে মদপানের শাস্তি নিয়ে বাড়তি ব্যাখ্যা না করে বলা যায়, আলী (রাঃ) নির্ধারিত সীমা না থাকার কারণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। বিচার ও শাস্তির ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতার শিক্ষা এখানে পরিষ্কার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও দায়িত্ববোধ জরুরি।
- শরাব পানকারীর শাস্তির ক্ষেত্রে আলী (রাঃ) বিশেষ সতর্কতা দেখিয়েছেন।
- নির্দিষ্ট সীমা না থাকলে বিচারকের সতর্কতা আরও দরকার।
- শাস্তি কার্যকর করা মানে দায়িত্বহীন আচরণ নয়।
