২৮/৪. অধ্যায়ঃ
কোন আক্রান্ত ব্যক্তি কোন আক্রমণকারীকে প্রতিহত করতে গিয়ে আক্রমণকারী যদি মারা যায় অথবা তার অঙ্গহানি হয় তাহলে কোন দায়-দায়িত্ব নেই।
আত্মরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ: আঙুল কামড়ানোর ঘটনায় ফয়সালা
আল লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৮৯
আল লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৮৯
حديث يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ رضي الله عنه، قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ النَبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ، فَكَانَ مِنْ أَوْثَقِ أَعْمَالِي فِي نَفْسِي، فَكَانَ لِي أَجِيرٌ، فَقَاتَلَ إِنْسَانًا، فَعَضَّ أَحَدُهُمَا إِصْبَعَ صَاحِبهِ، فَانْتَزَعَ إِصْبَعَهُ، فَأَنْدَرَ ثَنِيَّتَهُ فَسَقَطَتْ فَانْطَلَقَ إِلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَهْدَرَ ثَنِيَّتَهُ، وَقَالَ: أَفَيَدَعُ إِصْبَعَهُ فِي فِيكَ تقْضَمُهَا قَالَ أَحْسِبُهُ قَالَ: كَمَا يَقْضَمُ الْفَحْلُ اخرجه البخاري في: 37 كتاب الإجارة: 5 باب الأجير في الغزو
ইয়া‘লা ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে জাইশ্ল উসরাত অর্থাৎ তাবূকের যুদ্ধে লড়াই করেছিলাম। আমার ধারণায় এটাই ছিল আমার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ‘আমাল। আমার একজন মজদুর ছিল। সে একজন লোকের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং তাদের একজন আরেক জনের আঙ্গুল দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে। (বের করার জন্য) সে আঙ্গুল টান দেয়। এতে তার (প্রতিপক্ষের) একটি সামনের দাঁত পড়ে যায়। তখন লোকটি (অভিযোগ নিয়ে) নবী (ﷺ) -এর নিকট গেল। কিন্তু তিনি [নবী (ﷺ)] তার দাঁতের ক্ষতি পূরণের দাবী বাতিল করে দিলেন এবং বললেন সে কি তোমার মুখে তার আঙ্গুল ছেড়ে রাখবে, আর তুমি তা (দাঁত দিয়ে) চিবুতে থাকবে? বর্ণনাকারী [ইয়া‘লা (রাঃ)] বলেন, আমার মনে পড়ে তিনি [নবী (ﷺ)] বলেছেন, যেমন উট চিবায়।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩৭ : ইজারা, অধ্যায় ৫, হাঃ ২২৬৫; মুসলিম, পর্ব ২৮: কামাহ, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৬৭৪
আল লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইয়ালা ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ)-এর বর্ণনায় একটি ঘটনা এসেছে। তাঁর একজন মজদুর ছিল। সে আরেকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাদের একজন অন্যজনের আঙুল দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে। আক্রান্ত ব্যক্তি আঙুল বের করতে টান দিলে কামড়দাতার একটি সামনের দাঁত পড়ে যায়। এরপর অভিযোগ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে যায়। তিনি দাঁতের ক্ষতিপূরণের দাবি বাতিল করে দেন এবং প্রশ্ন করেন—সে কি তোমার মুখে তার আঙুল রেখে দেবে, আর তুমি তা চিবুতে থাকবে? এই কথায় বিষয়টি পরিষ্কার হয়: যে আক্রমণ করেছে, তার ক্ষতি তার নিজের কাজের ফল। এখানে মূল শিক্ষা আত্মরক্ষা ও ন্যায্য দায় নির্ধারণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কামড় দিয়ে অন্যকে আটকে রাখা অন্যায়।
- আঙুল ছাড়াতে গিয়ে যে ক্ষতি হলো, তার ক্ষতিপূরণ দাবি গ্রহণ করা হয়নি।
- আক্রমণের শুরুটি বিচার বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সহজ ভাষায় অন্যায়ের অযৌক্তিকতা বুঝিয়ে দিয়েছেন।
