২৭/১১. অধ্যায়ঃ
গোলামের সওয়াব যখন সে মনিবের কল্যাণে ব্রতী হয় এবং আল্লাহর ইবাদত উত্তমরূপে করে।
সৎ ক্রীতদাসের দ্বিগুণ সাওয়াব ও নেক আমলের মর্যাদা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৮০
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৮০
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْعَبْدِ الْمَمْلُوكِ [ص: 176] الصَّالِحِ أَجْرَانِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَوْلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ وَالْحَجُّ وَبِرُّ أُمِّي، لأَحْبَبْتُ أَنْ أَمُوتَ وَأَنَا مَمْلوكٌ
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সৎ ক্রীতদাসের সাওয়াব হবে দ্বিগুণ। আবূ হুরাইরা্ (রাঃ) বলেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহর পথে জিহাদ, হজ্জ এবং আমার মায়ের সেবার মতো উত্তম কাজ যদি না থাকত, তাহলে ক্রীতদাসরূপে মৃত্যুবরণ করাই আমি পছন্দ করতাম।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৯: ক্রীতদাস আযাদ করা, অধ্যায় ১৬, হাঃ ২৫৪৮; মুসলিম, পর্ব ২৭: কসম, অধ্যায় ১১, হাঃ ১৬৬৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, সৎ ক্রীতদাসের জন্য দুটি সাওয়াব আছে। এরপর আবূ হুরাইরা (রাঃ) শপথ করে বলেন, আল্লাহর পথে জিহাদ, হজ্জ এবং মায়ের সেবার মতো উত্তম কাজ যদি না থাকত, তাহলে তিনি ক্রীতদাস অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে পছন্দ করতেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সৎ অবস্থায় থাকা এবং দায়িত্বের মধ্যে থেকেও আল্লাহর আনুগত্য করা বড় মর্যাদার বিষয়। একই সঙ্গে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর কথায় কিছু বড় নেক আমলের গুরুত্বও বোঝা যায়—জিহাদ, হজ্জ এবং মায়ের সেবা। তবে হাদিসের সীমার মধ্যেই বলা যায়, সৎ ক্রীতদাসের দ্বিগুণ সাওয়াবের বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্ট করেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সৎ ক্রীতদাসের জন্য দ্বিগুণ সাওয়াবের কথা এসেছে।
- দায়িত্বের অবস্থানেও নেক আমল করা সম্ভব।
- আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর কথায় মায়ের সেবার মর্যাদা বোঝা যায়।
- জিহাদ, হজ্জ ও মায়ের সেবা বড় নেক কাজ হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
