২২/২১. অধ্যায়ঃ
উট বিক্রি করা ও তাতে চড়ে যাওয়ার শর্ত লাগানো।
জাবিরের উট বিক্রির হাদিস: লেনদেন, দয়া ও পারিবারিক দায়িত্বের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৩০
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৩০
حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: فَتَلاَحَقَ بِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا عَلَى نَاضِحِ لَنَا قَدْ أَعْيَا فَلاَ يَكَادُ يَسِيرُ، فَقَالَ لِي: مَا لِبَعِيرِكَ قَالَ: قُلْتُ: عَيِيَ قَالَ: فَتَخَلَّفَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَزَجَرَهُ وَدَعَا لَهُ، فَمَا زَالَ بَيْنَ يَدَيِ الإِبِلِ قُدَّامَهَا يَسِير، فَقَالَ لِي: كَيْفَ تَرَى بَعِيرَكَ قَالَ قُلْتُ: بِخَيْرٍ، قَدْ أَصَابَتْهُ بَرَكَتُكَ قَالَ: أَفَتَبِيعُنِيهِ قَالَ: فَاسْتَحْيَيْتُ، وَلَمْ يَكُنْ لَنَا نَاضِحٌ غَيْرُهُ، [ص: 155] قَالَ فَقُلْتُ: نَعَمْ قَالَ: فَبِعْنِيهِ فَبِعْتُهُ إِيَّاهُ عَلَى أَنَّ لِي فَقَارَ ظَهْرِهِ حَتَّى أَبْلُغَ الْمَدِينَةَ، قَالَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي عَرُوسٌ فَاسْتَأْذَنْتُهُ فَأَذِنَ لِي فَتَقَدَّمْتُ النَّاسَ إِلَى الْمَدِينَةِ، حَتَّى أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ، فَلَقِيَنِي خَالِي فَسَأَلَنِي عَنِ الْبَعِيرِ، فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا صَنَعْتُ فِيهِ فَلاَمَنِي قَالَ: وَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِي حِينَ اسْتَأْذَنْتُهُ: هَلْ تَزَوَّجْتَ بِكْرًا أَمْ ثَيِّبًا فَقُلْتُ: تَزَوَّجْتُ ثَيِّبًا فَقَالَ: هَلاَّ تَزَوَّجْتَ بِكْرًا تُلاَعِبُهَا وَتُلاَعِبُكَ قلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ تُوُفِّيَ وَالِدِي، أَوِ اسْتُشْهِدَ وَلِي أَخَوَاتٌ صِغَارٌ، فَكَرِهْتُ أَنْ أَتَزَوَّجَ مِثْلَهُنَّ فَلاَ تُؤَدِّبُهُنَّ وَلاَ تَقُومُ عَلَيْهِنَّ، فَتَزَوَّجْتُ ثَيِّبًا لِتَقُومَ عَلَيْهِنَّ وَتُؤَدِّبُهُنَّ قَالَ: فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ، غَدَوْتُ عَلَيْهِ بِالْبَعِيرِ، فَأَعْطَانِي ثَمَنَهُ وَرَدَّهُ عَلَيَّ
জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে এক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করি। তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) কিছুক্ষণ পরে এসে আমার সঙ্গে মিলিত হন; আমি তখন আমার পানি-সেচের উটনীর উপর আরোহী ছিলাম। উটনী ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল; এটি মোটেই চলতে পারছিল না। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার উটের কী হয়েছে? আমি বললাম, ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তখন আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) উটনীর পেছন দিক থেকে গিয়ে উটনীটিকে হাঁকালেন এবং এটির জন্য দু‘আ করলেন। অতঃপর এটি সবক’টি উটের আগে আগে চলতে থাকে। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এখন তোমার উটনীটি কেমন মনে হচ্ছে? আমি বললাম, ভালই। এটি আপনার বরকত লাভ করেছে। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি কি এটি আমার নিকট বিক্রি করবে? তিনি বলেন, আমি মনে মনে লজ্জাবোধ করলাম। (কারণ) আমার নিকট এ উটটি ব্যতীত পানি বহনের অন্য কোন উটনী ছিল না। আমি বললাম, হ্যাঁ। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেন, তাহলে আমার নিকট বিক্রি কর। অনন্তর আমি উটনীটি তাঁর নিকট এ শর্তে বিক্রি করলাম যে, মাদীনাহ্য় পৌঁছা পর্যন্ত এর উপর আরোহণ করব। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি সদ্য বিবাহিত একজন পুরুষ। অতঃপর আমি তাঁর নিকট অনুমতি চাইলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। আমি লোকদের আগে আগে চললাম এবং মাদীনাহ্য় পৌঁছে গেলাম। তখন আমার মামা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি আমাকে উটনীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। আমি তাকে সে বিষয়ে অবহিত করলাম যা আমি করেছিলাম। তিনি আমাকে তিরস্কার করলেন।তিনি (রাবী) বলেন, আর যখন আমি আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর নিকট অনুমতি চেয়েছিলাম, তখন তিনি আমাকে প্রশ্ন করছিলেন, তুমি কি কুমারী বিবাহ করেছ, না এমন মহিলাকে বিবাহ করেছ যার পূর্বে বিবাহ হয়েছিল? আমি বললাম, এমন মহিলাকে বিবাহ করেছি যার পূর্বে বিবাহ হয়েছে। তিনি বললেন, তুমি কুমারী বিবাহ করলে না কেন? তুমি তার সঙ্গে খেলা করতে এবং সেও তোমার সঙ্গে খেলা করত। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার পিতা শহীদ হয়েছেন। আমার কয়েকজন ছোট ছোট বোন রয়েছে। তাই আমি তাদের সমান বয়সের কোন মেয়ে বিবাহ করা পছন্দ করিনি যে তাদেরকে আদব-আখলাক শিক্ষা দিতে পারবে না এবং তাদের দেখাশোনা করতে পারবে না। তাই আমি একজন পূর্বে বিবাহ হয়েছে এমন মহিলাকে বিবাহ করেছি যাতে সে তাদের দেখাশোনা করতে পারে এবং তাদেরকে আদব-আখলাক শিক্ষা দিতে পারে।তিনি বলেন, যখন আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) মাদীনাহ্য় আসেন, পরদিন আমি তাঁর নিকট উটনীটি নিয়ে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে এর মূল্য দিলেন এবং উটটিও ফেরত দিলেন। মুগীরাহ (রাঃ) বলেন, আমাদের বিবেচনায় এটি উত্তম। আমরা এতে কোন কোন দোষ মনে করি না।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১১৩, হাঃ ২৯৬৭; মুসলিম, পর্ব ২২ : পানি সিঞ্চন, অধ্যায় ১২, হাঃ ৭১৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির (রাঃ)-এর উট বিক্রির ঘটনা খুব সহজভাবে আমাদের সামনে এসেছে। তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে এক যুদ্ধে ছিলেন। তাঁর পানি-সেচের উটনী খুব ক্লান্ত হয়ে যায় এবং চলতে পারছিল না। রাসূল صلى الله عليه وسلم উটনীটির জন্য দু‘আ করেন এবং সেটি শক্তি ফিরে পেয়ে অন্য উটের আগে চলতে থাকে। এরপর রাসূল صلى الله عليه وسلم উটনীটি কিনতে চান। জাবির (রাঃ) নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও বিক্রি করতে রাজি হন, তবে মাদীনায় পৌঁছানো পর্যন্ত চড়ার শর্ত রাখেন। রাসূল صلى الله عليه وسلم সেই শর্ত মেনে নেন। এতে বোঝা যায়, লেনদেনে স্পষ্ট কথা বলা ও প্রয়োজন জানানো ভালো। পরে রাসূল صلى الله عليه وسلم উটের মূল্য দেন এবং উটটিও ফেরত দেন। একই হাদিসে জাবির (রাঃ)-এর বিয়ের কথাও এসেছে। তিনি জানান, ছোট বোনদের দেখাশোনা ও আদব শেখানোর জন্য তিনি আগে বিবাহিত এক নারীকে বিয়ে করেছেন। তাই এই হাদিসে নববী সদাচরণ, বরকতের দু‘আ, উট বিক্রির শর্ত এবং পরিবারের দায়িত্ববোধ—সবই সহজ ভাষায় ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লেনদেনে শর্ত থাকলে তা শুরুতেই পরিষ্কার করে বলা উচিত।
- অন্যের কষ্ট ও প্রয়োজন বুঝে দয়া দেখানো রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সুন্দর আদর্শ।
- পরিবারের ছোট সদস্যদের দেখাশোনা ও শিক্ষা দেওয়ার চিন্তা করা দায়িত্ববোধের অংশ।
- দু‘আ ও সদাচরণ মানুষের বিপদে স্বস্তির কারণ হতে পারে।
