২২/৬. অধ্যায়ঃ
অসচ্ছল ব্যক্তিকে সুযোগ দেয়ার ফাযায়েল।
অভাবগ্রস্তকে ঋণ মাফ করা: দয়ার সুন্দর শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০০৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০০৭
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: كَانَ تَاجِرٌ يُدَايِنُ النَّاسَ، فَإِذَا رَأَى مُعْسِرًا قَالَ لِفِتْيانِهِ تَجَاوَزُوا عَنْهُ، لَعَلَّ اللهَ أَنْ يَتَجَاوَزَ عَنَّا، فَتَجَاوَزَ اللهُ عَنْهُ
আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, এক ব্যবসায়ী লোকদের ঋণ দিত। কোন অভাবগ্রস্তকে দেখলে সে তার কর্মচারীদের বলত, তাকে ক্ষমা করে দাও, হয়তো আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। এর ফলে আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দেন।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৩৪ : ক্ৰয়-বিক্রয়, অধ্যায় ১৮, হাঃ ২০৭৮; মুসলিম, পর্ব ২২ : পানি সিঞ্চন, অধ্যায় ৬, হাঃ ১৫৬২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যবসায়ীর কথা এসেছে, যে মানুষকে ঋণ দিত। সে যখন কোনো অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাকে দেখত, কর্মচারীদের বলত, তাকে ক্ষমা করে দাও; হয়তো আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করবেন। এরপর হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। এখানে ঋণ মাফ করার ফজিলত ও দয়ার শিক্ষা খুব সহজভাবে এসেছে। ব্যবসায়ী হওয়া মানে শুধু লাভ দেখা নয়; মানুষের কষ্টও দেখা দরকার। এই হাদিস অভাবগ্রস্তকে মাফ করা, ঋণ আদায়ে নরম হওয়া এবং আল্লাহর ক্ষমার আশা রাখার কথা শেখায়। তবে এটি কোনো ব্যবসায়িক অবহেলার ডাক নয়; বরং কষ্টে থাকা মানুষের প্রতি কোমল আচরণের শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রহীতার প্রতি দয়া দেখানো প্রশংসনীয়।
- ঋণ মাফ করা আল্লাহর ক্ষমা লাভের আশা জাগায়।
- ব্যবসায় শুধু লাভ নয়, মানুষের কষ্টও বিবেচ্য।
- অধীন কর্মচারীদের নরম আচরণের নির্দেশ দেওয়া ভালো কাজ।
