২৯/৪৬. অধ্যায়ঃ
ফালূদা
দুনিয়ার প্রাচুর্য নিয়ে নববী সতর্কতার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৩৪০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৩৪০
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الضَّحَّاكِ السُّلَمِيُّ أَبُو الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَوَّلُ مَا سَمِعْنَا بِالْفَالُوذَجِ، أَنَّ جِبْرِيلَ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَتَى النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ إِنَّ أُمَّتَكَ تُفْتَحُ عَلَيْهِمُ الأَرْضُ فَيُفَاضُ عَلَيْهِمْ مِنَ الدُّنْيَا حَتَّى إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الْفَالُوذَجَ . فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " وَمَا الْفَالُوذَجُ " . قَالَ يَخْلِطُونَ السَّمْنَ وَالْعَسَلَ جَمِيعًا . فَشَهَقَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لِذَلِكَ شَهْقَةً .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, সর্বপ্রথম আমরা ফালূযার নাম শুনতে পাই, জিবরীল (আঃ) নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলেন, আপনার উম্মত অনেক দেশের উপর বিজয়ী হবে এবং অঢেল সম্পদ তাদের হস্তগত হবে, এমনকি তারা ফালূযা খাবে। নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ ফালূযা কী? তিনি বলেনঃ তারা ঘি ও মধু একত্রে মিশাবে। একথা শুনে নবী (ﷺ) কান্নার মত আওয়াজ করলেন।
তাহকীক আলবানীঃ সানাদটি মুনকার ও মাতানটি বানোয়াট।[৩৩৪০] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সানাদটি মুনকার ও মাতানটি বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল ওয়াহহাব বিন দাহহাক আস-সুলামী আবুল হারিস সম্পর্কে আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। আবু জা'ফার আল-উকায়লী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি জাল (বানিয়ে) হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু নু'আয়ম আল-আসবাহানী বলেন, তিনি একাধিক জাল হাদিস বর্ণনা করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬০১, ১৮/৪৯৪ নং পৃষ্ঠা) ২. ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী, ইবনু আবু শায়বাহ, আমর ইবনুল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭২, ৩/১৬৩ নং পৃষ্ঠা) ৩. মুহাম্মাদ বিন তালহাহ আত তায়মী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৩১২, ২৫/৪১৪ নং পৃষ্ঠা) ৪. উসমান বিন ইয়াহইয়া সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৭২, ১৭/২১৯ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৩৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুনিয়ার প্রাচুর্য ও বিলাসী খাবার নিয়ে একটি গভীর শিক্ষা আছে। জিবরীল (আঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানান যে তাঁর উম্মত অনেক দেশ জয় করবে, তাদের হাতে প্রচুর সম্পদ আসবে এবং তারা ফালূযা নামের খাবার খাবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) জানতে চান, ফালূযা কী। উত্তরে বলা হয়, ঘি ও মধু একসাথে মিশিয়ে তা তৈরি করা হবে। এই কথা শুনে নবী (صلى الله عليه وسلم) কান্নার মতো আওয়াজ করেন। হাদিসটি আমাদের সামনে দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের একটি সতর্ক ছবি তুলে ধরে। এখানে সম্পদ পাওয়ার কথা আছে, কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতিক্রিয়া আমাদের বুঝায় যে প্রাচুর্য মানুষকে পরীক্ষা করতে পারে। তাই খাবার, সম্পদ ও আরামের মাঝেও সংযম, কৃতজ্ঞতা এবং আখিরাতের ভাবনা রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার প্রাচুর্য মানুষের জন্য পরীক্ষা হতে পারে।
- বিলাসী খাবার ও সম্পদ পেলেও সংযমী মন রাখা দরকার।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের ভবিষ্যৎ অবস্থা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত ছিলেন।
- খাবার ও সম্পদের ব্যাপারে কৃতজ্ঞতা এবং সতর্কতা জরুরি।
