৮/০. অধ্যায়ঃ
যে সমস্ত গুণাবলীর কারণে মেয়েদের বিবাহ করা হয়
দীনদার জীবনসঙ্গী নির্বাচন: বিয়েতে সঠিক অগ্রাধিকার
বুলুগুল মারাম : ৯৭১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৯৭১
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا, وَلِحَسَبِهَا, وَلِجَمَالِهَا, وَلِدِينِهَا, فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ مَعَ بَقِيَّةِ السَّبْعَةِ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয়ঃ তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দীনদারী। সুতরাং তুমি দীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। [১০৬৪]
[১০৬৪] বুখারী ৫০৯০, মুসলিম ১৪৬৬, নাসায়ী ৩২৩০, আবূ দাউদ ২০৪৭, ইবনু মাজাহ ২৮৫৮, আহমাদ ৯২৩৭, দারেমী ২১৭০।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৯৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিয়ের ক্ষেত্রে মানুষের সাধারণ বিবেচনার চারটি দিক বলা হয়েছে—সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য এবং দীনদারী। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দীনদারীকেই প্রাধান্য দিতে বলেছেন। অর্থাৎ শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য, সামাজিক মর্যাদা বা সম্পদের দিকে তাকিয়ে জীবনসঙ্গী নির্বাচন করাই যথেষ্ট নয়। দাম্পত্য জীবন দীর্ঘ পথ; সেখানে চরিত্র, দ্বীন ও আল্লাহভীতি বড় বিষয়। হাদিসটি অন্য তিনটি বিষয়কে আলোচনা করেছে, কিন্তু শেষ নির্দেশে দীনদারীর গুরুত্ব স্পষ্ট করেছে। তাই বিয়ের সিদ্ধান্তে আবেগ বা বাহ্যিক আকর্ষণের সঙ্গে সঙ্গে দ্বীনের দিকটি দেখা দরকার। এই শিক্ষা পরিবার গঠনে স্থিরতা, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিকতার দিকে মানুষকে আহ্বান করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিয়েতে সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য ও দীনদারী—চারটি বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে।
- নবীজি صلى الله عليه وسلم দীনদারীকেই প্রাধান্য দিতে বলেছেন।
- জীবনসঙ্গী নির্বাচনে বাহ্যিক বিষয়ের চেয়ে দ্বীনের মূল্য বেশি।
- বিয়ের সিদ্ধান্তে নৈতিকতা ও চরিত্রের দিকটি দেখা দরকার।
