৭/১২. অধ্যায়ঃ
জোরপূর্বক অন্যায়ভাবে কিছু অধিকার করা - অপরের বস্তু নষ্ট হলে তার বিধান
ভাঙা পাত্রের বদল: ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়ের শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৮৯৫
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৮৯৫
وَعَنْ أَنَسٍ; - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ عِنْدَ بَعْضِ نِسَائِهِ، فَأَرْسَلَتْ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ مَعَ خَادِمٍ لَهَا بِقَصْعَةٍ فِيهَا طَعَامٌ، فَكَسَرَتِ الْقَصْعَة، فَضَمَّهَا, وَجَعَلَ فِيهَا الطَّعَامَ. وَقَالَ: «كُلُوا» وَدَفَعَ الْقَصْعَةَ الصَّحِيحَةَ لِلرَّسُولِ, وَحَبَسَ الْمَكْسُورَةَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّوَالتِّرْمِذِيُّ, وَسَمَّى الضَّارِبَةَ عَائِشَةَ, وَزَادَ: فَقَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «طَعَامٌ بِطَعَامٍ, وَإِنَاءٌ بِإِنَاءٍ». وَصَحَّحَهُ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোন এক সহধর্মিণীর কাছে ছিলেন । উম্মুল মু’মিনীনদের অপর একজন খাদিমের মারফত এক পাত্রে খাবার পাঠালেন । তিনি পাত্রটি ভেংগে ফেললেন । তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা জোড়া লাগিয়ে তাতে খাবার রাখলেন এবং (সাথীদেরকে) বললেন, তোমরা খাও এবং উক্ত খাদিমকে দিয়ে ভাল পেয়ালাটি (ভাঙ্গাটির বদলে) পাঠিয়ে দিলেন । আর ভাঙ্গা পেয়ালাটি রেখে দিলেন । তিরমিযী ‘আয়িশা-কে ভঙ্গকারিনী বলে উল্লেখ করেছে । আর তিনি বর্ধিত বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, ‘খাবার নষ্ট করলে (জরিমানা স্বরূপ) খাবার ও পাত্র নষ্ট করলে তার পরিবর্তে পাত্র । তিরমিযী একে সহীহ্ বলেছেন । [৯৬১]
[৯৬১] বুখারী ৫২২৫, ২৪৮১, তিরমিযী ১৩৫৯, ৩৯৫৫, ৩৫৬৭, ইবনু মাজাহ ২৩৩৪, আহমাদ ১১৬১৬, ১৩৩৬১, দারেমী ২৫৯৮ ।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এক সহধর্মিণীর কাছে ছিলেন। অন্য একজন উম্মুল মু’মিনীন খাদিমের মাধ্যমে খাবার ভর্তি পাত্র পাঠান। তখন পাত্রটি ভেঙে যায়। নবীজি ভাঙা পাত্র জোড়া লাগিয়ে তাতে খাবার রাখেন এবং সাথীদের বলেন, তোমরা খাও। এরপর ভালো পাত্রটি খাদিমের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন এবং ভাঙা পাত্রটি রেখে দেন। তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে, খাবারের বদলে খাবার, পাত্রের বদলে পাত্র। এখানে ক্ষতিপূরণ, ন্যায়সঙ্গত বদল এবং শান্তভাবে পরিস্থিতি সামলানোর শিক্ষা আছে। নবীজি উত্তেজনা বাড়াননি; বরং ক্ষতি পূরণের পথ দেখিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও জিনিস নষ্ট হলে ন্যায়সঙ্গত বদল দেওয়া উচিত।
- সমস্যা হলে শান্তভাবে সমাধান করা ভালো।
- খাবারের ক্ষতি হলে খাবার, পাত্রের ক্ষতি হলে পাত্র—ক্ষতিপূরণের শিক্ষা আছে।
- বিরক্তিকর পরিস্থিতিতেও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ করা দরকার।
