৭/৩. অধ্যায়ঃ
সুদ - সুদের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এবং এর কঠিন শাস্তির প্রসঙ্গ
সুদের ভয়াবহতা: সুদগ্রহীতা, সুদদাতা ও সহায়কদের সতর্কতা
বুলুগুল মারাম : ৮২৯
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৮২৯
عَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - آكِلَ الرِّبَا, وَمُوكِلَهُ, وَكَاتِبَهُ, وَشَاهِدَيْهِ, وَقَالَ: «هُمْ سَوَاءٌ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদ লেন-দেনের লেখক ও সাক্ষীদ্বয়কে লানত করেছেন। আর তিনি তাদের সকলকে সমান (অপরাধী) বলেছেন। [৮৮২]
[৮৮২] মুসলিম ১৫৯৮, আহমাদ ১৩৮৫১।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সুদের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি পক্ষের কথা বলা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদ লেনদেনের লেখক এবং সাক্ষীদ্বয়কে লানত করেছেন। এরপর বলা হয়েছে, তারা সবাই সমান। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সুদ শুধু যে ব্যক্তি নেয় তার বিষয় নয়; যে দেয়, যে লিখে, যে সাক্ষী থাকে—তাদেরও এতে অংশ থাকে। তাই সুদ থেকে দূরে থাকার সঙ্গে সঙ্গে সুদের লেনদেনে সহযোগিতা করা থেকেও সতর্ক থাকা দরকার। হাদিসটি ইসলামে সুদের নিষেধাজ্ঞার গুরুত্ব খুব স্পষ্ট করে তুলে ধরে। ব্যবসা ও অর্থ লেনদেনে হালাল পথ খোঁজা এবং সুদভিত্তিক চুক্তি থেকে বাঁচা একজন মুসলিমের জন্য বড় শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সুদ নেওয়া ও দেওয়া—দুটিই গুরুতরভাবে নিন্দিত।
- সুদ লেনদেন লিখে দেওয়া বা সাক্ষী থাকাও সতর্কতার বিষয়।
- অন্যায় লেনদেনে সাহায্য করা থেকেও দূরে থাকা উচিত।
- ইসলাম অর্থ লেনদেনে হালাল ও পরিষ্কার পথ শেখায়।
