৭/১. অধ্যায়ঃ
ক্রয় বিক্রয়ের শর্তাবলী ও তার নিষিদ্ধ বিষয় - ধোঁকা দিয়ে বিক্রি করার কতিপয় মাসআলা
পানিতে থাকা মাছ বিক্রি: ধোঁকাপূর্ণ লেনদেন থেকে বাঁচার শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৮২২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৮২২
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا تَشْتَرُوا السَّمَكَ فِي الْمَاءِ; فَإِنَّهُ غَرَرٌ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَشَارَ إِلَى أَنَّ الصَّوَابَ وَقْفُهُ
ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মাছ পানিতে থাকা অবস্থায় ক্রয় করবে না- কেননা এটা একটা ধোঁকা বিশেষ। - আহমাদ এর সানাদকে মাওকূফ হওয়া সঠিক বলে ইঙ্গিত করেছেন। [৮৭৫]
[৮৭৫] আহমাদ ৩৬৭৬, ৩৭২৪, ৩৮২৪, মুসলিম ২১৬৯, ইবনু মাজাহ ১৩৯। একে আহমাদ শাকের মুসনাদ আহমাদ (৫/২৫০) গ্রন্থে, আলবানী যঈফুল জামে (৬২৩১) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু উসাইমীন তার বুলুগুল মারামের শরাহতে (৩/৬২০) পৃষ্ঠায় একে পরিষ্কার মাওকূফ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম শওকানী আদ দুরারুল মাযীয়্যাহ (২৫২) গ্রন্থে বলেন, এর মধ্যে ইয়াযীদ বিন আবূ যিয়াদ রয়েছে। তবে তিনি নাইলুল আওত্বার গ্রন্থে (৫/২৪৩) গ্রন্থে এ হাদীসের শাহেদ থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে পানিতে থাকা মাছ কেনা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ মাছ তখনও ধরা হয়নি, তার পরিমাণ জানা নেই এবং সেটি আদৌ পাওয়া যাবে কি না, তাও নিশ্চিত নয়। হাদিসে এটিকে ধোঁকা বলা হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ক্রয়-বিক্রয়ে এমন জিনিস থাকা উচিত নয় যার অস্তিত্ব, পরিমাণ বা হস্তগত হওয়া অনিশ্চিত। ক্রেতা যেন অজানা ঝুঁকিতে না পড়ে, আর বিক্রেতাও যেন এমন কিছু বিক্রি না করে যা সে স্পষ্টভাবে দিতে পারবে কি না জানে না। সহজভাবে বললে, ইসলামে বেচাকেনা পরিষ্কার, নির্ভরযোগ্য ও ধোঁকামুক্ত হওয়া চাই। পানির মাছ কেনাবেচার এই নিষেধাজ্ঞা অনিশ্চিত বেচাকেনা থেকে সতর্ক থাকার একটি স্পষ্ট শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যে বস্তু হাতে নেই বা ধরা হয়নি, তা কেনাবেচায় ধোঁকার আশঙ্কা থাকে।
- লেনদেনে পণ্যের অবস্থা ও পাওয়া নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
- ইসলাম ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য নিরাপদ বেচাকেনা চায়।
- অজানা ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে চুক্তি করা উচিত নয়।
