৭/১. অধ্যায়ঃ
ক্রয় বিক্রয়ের শর্তাবলী ও তার নিষিদ্ধ বিষয় - উট, গরু, ছাগলের দুধ আটকিয়ে রেখে বিক্রয় করা নিষেধ
দুধ আটকানো বকরী ফেরত: এক সা‘ খেজুরের বিধান
বুলুগুল মারাম : ৮১৫
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৮১৫
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: مَنِ اشْتَرَى شَاةً مَحَفَّلَةً, فَرَدَّهَا, فَلْيَرُدَّ مَعَهَا صَاعًا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّوَزَادَ الْإِسْمَاعِيلِيُّ: مِنْ تَمْرٍ
আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে ব্যক্তি (স্তন্যে) দুধ আটকিয়ে রাখা বকরী ক্রয় করে তা ফেরত দিতে চায়, সে যেন এর সঙ্গে এক সা‘ পরিমাণ খেজুরও দেয়। বুখারী (রহঃ); ইসমাইলী বর্ণনা অতিরিক্ত করেছেন যে, খেজুর হতে এক সা‘ বা আড়াই কেজি মালিককে দেবে। [৮৬৮]
[৮৬৮] বুখারী ২১৪৯, ইবনু মাজাহ ২২৪১, আহমাদ ৪০৮৫।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি স্তনে দুধ আটকিয়ে রাখা বকরী কিনে তা ফেরত দিতে চায়, সে যেন এর সঙ্গে এক সা‘ পরিমাণ খেজুরও দেয়। ইসমাঈলীর বর্ণনায় খেজুরের বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে। এই হাদিস আগের হাদিসের মতোই ক্রয়-বিক্রয়ের একটি বাস্তব সমস্যা নিয়ে কথা বলে। বিক্রেতা যদি পশুর দুধ আটকে রেখে তাকে বেশি দুধওয়ালা বলে দেখায়, ক্রেতা পরে বুঝতে পারে। তখন ফেরতের নিয়মে খেজুর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে দুই পক্ষের স্বার্থের ভারসাম্য দেখা যায়: ক্রেতা প্রতারণা থেকে বাঁচে, আবার দুধ ব্যবহার হয়ে গেলে বিক্রেতাও কিছু প্রতিদান পায়। ইসলামী লেনদেনে শুধু বাতিল করা নয়; ন্যায্য সমাধানও গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুধ আটকিয়ে পশুর আসল অবস্থা গোপন করা উচিত নয়।
- ফেরতের ক্ষেত্রেও ন্যায্য প্রতিদানের কথা ভাবা হয়।
- লেনদেনের ভুল ধরা পড়লে শান্তভাবে নিয়ম মেনে সমাধান করা দরকার।
