৭/১. অধ্যায়ঃ

ক্রয় বিক্রয়ের শর্তাবলী ও তার নিষিদ্ধ বিষয় - “মুদাব্বার” গোলাম বিক্রির বিধান

মুদাব্বের দাস বিক্রির হাদিস: সম্পদ ব্যবহারে বাস্তব শিক্ষা

বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৭৮৬

وَعَنْهُ قَالَ: أَعْتَقَ رَجُلٌ مِنَّا عَبْدًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ. فَدَعَا بِهِ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - فَبَاعَهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কোন এক সহাবী তাঁর একমাত্র দাসকে মুদাব্বের* করে মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন। সেটি ছাড়া তার আর কোন সম্পদ ছিল না। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাসটিকে নিয়ে ডেকে আনালেন ও বিক্রি করে দিলেন। [৮৩৬]

[৮৩৬] বুখারী ২২৩১, ২৪০৪, মুসলিম ৯৯৭, তিরমিযী ১২১৯, নাসায়ী ৪৬৫২, ৪৬৫৩, আবূ দাউদ ৩৯৫৫, ৩৯৫৭, ইবনু মাজাহ ২৫১২, আহমাদ ১৩৭১৯, ১৩৮০৩, দারেমী ২৫৭৩।যে দাস বা দাসীকে তার মনিব জীবিতাবস্থায় তাঁর মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়া এমন দাস-দাসীকে মুদাব্বের বলা হয়। অর্থাৎ মনিব মারা যাবার সাথে সাথে সে মুক্ত হয়ে যাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাদীস থেকে দলীল। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (আরবী) উযরাহ সম্প্রদায়ের জনৈক ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরে তার গোলাম আযাদ হবে বলে ঘোষণা দিল, বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ তোমার কাছে কি এ ছাড়া অন্য কোন সম্পদ আছে? সে বললঃ না। তিনি বললেন, কে আমার কাছ থেকে এ গোলামটি খরিদ করবে? নুয়াইম বিন আব্দুল্লাহ আল আদাবী একে আটশত দিরহামের বিনিময়ে খরিদ করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একে নিয়ে আসা হলো, তিনি তাকে তার কাছে দিয়ে দিলেন। অতঃপর বললেন, তুমি প্রথমে নিজেকে দান করবে। যদি কিছু অতিরিক্ত থাকে তাহলে তোমার পরিবারের পিছনে ব্যয় করবে। যদি তারপরও কিছু অতিরিক্ত থাকে, তাহলে তোমার আত্মীয় স্বজনদের সদকা করবে। (আরবী) অর্থাৎ মানবের মৃত্যুর সাথে দাস আযাদের সম্পর্ক করা। এ ভাবে বলা যে, আমার মৃত্যুর পর তুমি আযাদ ।

বুলুগুল মারাম হাদিস ৭৮৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক সহাবীর ঘটনা এসেছে। তিনি তাঁর একমাত্র দাসকে মুদাব্বের করে মুক্ত করার ব্যবস্থা করেছিলেন। দেওয়া অনুবাদে আছে, ওই দাস ছাড়া তার আর কোনো সম্পদ ছিল না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাসটিকে ডেকে আনালেন এবং বিক্রি করে দিলেন। এখানে মুদাব্বের বলতে এমন দাস বোঝানো হয়েছে, যাকে মালিকের মৃত্যুর পর মুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ভালো ইচ্ছা থাকলেও সম্পদের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা দরকার। দান, মুক্তি বা প্রতিশ্রুতির মতো কাজেও পরিবারের প্রয়োজন, ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা এবং ন্যায়বিচার দেখা জরুরি। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, ইসলামে আবেগের পাশাপাশি বাস্তব দায়িত্বও গুরুত্ব পায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ভালো কাজের সিদ্ধান্তেও নিজের সম্পদের অবস্থা বিবেচনা করা দরকার।
  • একটি সিদ্ধান্তে অন্য প্রয়োজন নষ্ট হলে তা যাচাই করা উচিত।
  • নবীজি বাস্তব অবস্থা দেখে ব্যবস্থা নিয়েছেন।
  • সম্পদ ব্যবহারে দায়িত্ববোধের শিক্ষা রয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন