৬/৫. অধ্যায়ঃ
হাজের বিবরণ ও মক্কায় প্রবেশ - আরাফায় গমনকালে তালবিয়া এবং তাকবীর পাঠ করার বৈধতা
হজ্জে তালবিয়া ও তাকবির: সাহাবীদের আমলে সহজতা
বুলুগুল মারাম : ৭৫৩
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৭৫৩
وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ يُهِلُّ مِنَّا الْمُهِلُّ فَلَا يُنْكِرُ عَلَيْهِ, وَيُكَبِّرُ [مِنَّا] الْمُكَبِّرُ فَلَا يُنْكِرُ عَلَيْهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়া পড়তে চাইত তারা পড়ত, তাতে বাধা দেয়া হতো না। এবং যারা তাকবির পড়তে চাইত তারা তাকবির পড়ত, এতেও বাধা দেয়া হতো না। [৮০১]
[৮০১] বুখারী ৯৭০, ১৬৫৯, মুসলিম ১২৮৫, নাসায়ী ৩০০০, ইবনু মাজাহ ৩০০৮, মুওয়াত্তা মালেক ৭৫৩ মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকার সাকাফী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তাঁরা উভয়ে সকাল বেলায় মিনা হতে ‘আরাফাহর দিকে যাচ্ছিলেন, আপনারা এ দিনে আল্লাহর রাসূল ( সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এর সঙ্গে থেকে কিরুপ করতেন ? তিনি বললেন -----হাদীস।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৭৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি সুন্দর বিষয় বলেছেন। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়া পড়তে চাইত তারা পড়ত, তাতে বাধা দেওয়া হতো না। আবার যারা তাকবির পড়তে চাইত তারা তাকবির পড়ত, এতেও বাধা দেওয়া হতো না। হাদিসের ভাষা থেকে বোঝা যায়, এই অবস্থায় সাহাবীদের মধ্যে তালবিয়া ও তাকবির—দুই ধরনের জিকিরই চলত এবং একে অপরকে দোষ দেওয়া হতো না। ‘হজ্জে তালবিয়া’, ‘হজ্জে তাকবির’, ‘তালবিয়া না তাকবির’—এসব প্রশ্নে এই হাদিস ভারসাম্য শেখায়। তবে হাদিসের বাইরে গিয়ে সব অবস্থার বিস্তারিত বিধান এখানে বানানো যাবে না। মূল শিক্ষা হলো, বর্ণিত জায়গায় অনুমোদিত জিকিরে অযথা বাধা না দেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীদের কেউ তালবিয়া পড়তেন, কেউ তাকবির পড়তেন।
- এই বর্ণনায় একে অপরকে বাধা দেওয়ার কথা নেই।
- হজ্জের সফরে জিকিরের প্রতি যত্ন রাখা উচিত।
- যেখানে হাদিসে সহজতা এসেছে, সেখানে অযথা কঠোরতা করা ঠিক নয়।
