৫/১. অধ্যায়ঃ
নফল সওম ও তার নিষিদ্ধকাল - শনিবার এবং রবিবারে রোযা রাখার ব্যাপারে অনুমতি প্ৰদান
শনি ও রবিবারের সাওম: মুশরিকদের বিপরীত করার শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৬৯৩
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৬৯৩
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ أَكْثَرَ مَا يَصُومُ مِنَ الْأَيَّامِ يَوْمُ السَّبْتِ, وَيَوْمُ الْأَحَدِ, وَكَانَ يَقُولُ: «إِنَّهُمَا يَوْمَا عِيدٍ لِلْمُشْرِكِينَ, وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَهُمْ». أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ, وَهَذَا لَفْظُهُ
উম্মু সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেসব দিনে সাওম পালন করতেন তার মধ্যে শনি ও রবিবারেই বেশী সাওম পালন করতেন। আর তিনি বলতেন-এ দুটি দিন মুশরিকদের ‘ঈদ (খুশির) উদ্যাপনের দিন, আমি তাদের বিপরীত করতে চাই। নাসায়ী ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন আর শব্দ বিন্যাস তারই। [৭৩৮]
[৭৩৮] নাসায়ী কুবরা ২/১৪৬, ইবনু খুযাইমাহ ২১৬৭।শাইখ আলবানী সহীহ ইবনু খুযাইমাহ (২১৬৮), তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ (২০১০) গ্রন্থে বলেছেন, এর সনদ দুর্বল। সিলসিলা যঈফা (১০৯৯) গ্রন্থেও এর সনদের দুর্বলতার কথা বলেছেন। জিলবাবুল মারআহ (১৭৯) গ্রন্থে বলেছেন, তাতে দূর্বলতা রয়েছে।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৬৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি আমল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবীজি যেসব দিনে সাওম পালন করতেন, তার মধ্যে শনি ও রবিবারে বেশি সাওম রাখতেন। তিনি বলতেন, এই দুই দিন মুশরিকদের ঈদের দিন, আর তিনি তাদের বিপরীত করতে চান। এখানে মূল বিষয় হলো, নবীজির একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসহ সাওমের আমল। একই সঙ্গে বর্ণনায় বলা হয়েছে, নাসায়ী এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন। তাই শনিবারের সাওম নিয়ে অন্য বর্ণনার সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে এই হাদিসটিও মনে রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি শনি ও রবিবারে বেশি সাওম রাখতেন বলে বর্ণনা এসেছে।
- এই আমলের পেছনে মুশরিকদের বিপরীত করার উদ্দেশ্য উল্লেখ আছে।
- হাদিসের মান সম্পর্কে ইবনু খুযাইমাহর সহীহ বলার কথা এসেছে।
- একই বিষয়ে সব বর্ণনা মিলিয়ে বুঝতে হয়।
