১/৬. অধ্যায়ঃ
উযূ বিনষ্টকারী বিষয় সমূহ - ইস্তিহাযার রক্ত উযূকে ভেঙ্গে দেয়
ইস্তিহাযা হলে সালাত: হায়য ও রোগজনিত রক্তের পার্থক্য
বুলুগুল মারাম : ৬৮
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৬৮
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ, أَفَأَدَعُ الصَّلَاةَ? قَالَ: «لَا. إِنَّمَا ذَلِكَ عِرْقٌ, وَلَيْسَ بِحَيْضٍ, فَإِذَا أَقْبَلَتْ حَيْضَتُكِ فَدَعِي الصَّلَاةَ, وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ, ثُمَّ صَلِّي». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِوَلِلْبُخَارِيِّ: ثُمَّ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلَاةٍوَأَشَارَ مُسْلِمٌ إِلَى أَنَّهُ حَذَفَهَا عَمْدًا
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ফাতিমা বিনতে আবী হুবাইশ একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন রক্ত-প্রদর রোগগ্রস্তা (ইস্তি হাযাহ) মহিলা। আমি এখনো পবিত্র হতে পারি না। এমতবস্থায় আমি কি সালাত পরিত্যাগ করবো?’ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না, এতো শিরা হতে নির্গত রক্ত, হায়য নয়। তাই যখন তোমার হায়য আসবে তখন সালাত ছেড়ে দিও। আর যখন তা বন্ধ হবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলবে, তারপর সালাত আদায় করবে। [৮৫] বুখারীর ইবারতে আছে- “প্রতি ওয়াক্তের সালাত আদায়ের জন্য ওজু কর নিবে”। [৮৬] ইমাম মুসলিম এ অংশটি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছেন বলে আভাস দিয়েছেন।
[৮৫] বুকারী (৩২৮) ; মুসলিম (৩৩৩)[৮৬] ফাতহুল বারী (১/৩৩২)
বুলুগুল মারাম হাদিস ৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতিমা বিনতে আবী হুবাইশ (রাঃ) তাঁর দীর্ঘ রক্তস্রাবের কথা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে জানতে চান। তিনি বলেন, তিনি পবিত্র হতে পারেন না, তাহলে কি সালাত ছেড়ে দেবেন? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এটি শিরা থেকে নির্গত রক্ত, হায়য নয়। তাই হায়য এলে সালাত ছেড়ে দিতে হবে; আর হায়য বন্ধ হলে রক্ত ধুয়ে সালাত আদায় করতে হবে। বুখারীর বর্ণনায় প্রতি সালাতের জন্য ওজুর কথাও এসেছে। এখানে নারীদের পবিত্রতা, ইস্তিহাযা ও সালাতের বাস্তব দিকটি পরিষ্কারভাবে বোঝানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইস্তিহাযার রক্তকে হায়যের রক্তের মতো ধরা হয়নি।
- হায়যের সময় সালাত ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ এসেছে।
- হায়য বন্ধ হলে রক্ত ধুয়ে সালাত আদায় করতে বলা হয়েছে।
- বুখারীর বর্ণনায় প্রতি সালাতের জন্য ওজুর কথা এসেছে।
