৪/২. অধ্যায়ঃ
নফল সদাকাহ - কোন প্রকারের যাচ্ঞা করা নিন্দনীয় নয়
ভিক্ষা করা কেন মুখের ক্ষতচিহ্নের মতো বলা হয়েছে
বুলুগুল মারাম : ৬৪২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৬৪২
وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْمَسْأَلَةُ كَدٌّ يَكُدُّ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ, إِلَّا أَنْ يَسْأَلَ الرَّجُلُ سُلْطَانًا, أَوْ فِي أَمْرٍ لَا بُدَّ مِنْهُ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ
সামুরাহ বিন জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- যাচঞা করা হচ্ছে একটি ক্ষতচিহ্ন মাত্র। যে ব্যক্তি যাচএা করল যে যেন নিজের মুখমণ্ডলকেই ক্ষতবিক্ষত (কলঙ্কিত) করল। তবে সে ব্যক্তি নিরুপায় হলে দেশের সুলতানের নিকট চাইতে পারে। তিরমিয়ী একে সহীহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।” [৬৮৮]
৬৮৮. তিরমিয়ী ৬৮১, নাসায়ী ২৫৯৯, ২৬০০, আহমাদ ১৯৬০০, ১৯৭০৭।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৬৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ভিক্ষা করাকে মুখমণ্ডলের ক্ষতচিহ্নের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, অকারণে মানুষের কাছে চাওয়া মানুষের সম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে হাদিসটি সব ধরনের সাহায্য চাওয়াকে একভাবে নিষেধ করছে না। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যদি কেউ নিরুপায় হয়, বা এমন প্রয়োজন দেখা দেয় যা এড়ানো যায় না, তাহলে সে সুলতান বা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে চাইতে পারে। তাই ভিক্ষা করা, সওয়াল করা, প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাওয়া এবং আত্মসম্মান রক্ষা—এসব বিষয় এই হাদিসে পরিষ্কারভাবে এসেছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, অভ্যাস হিসেবে চাওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত, কিন্তু সত্যিকারের প্রয়োজন হলে বৈধ পথেই সাহায্য চাইতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অকারণে ভিক্ষা করা মানুষের সম্মানকে আঘাত করে।
- নিরুপায় অবস্থায় দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া যায়।
- প্রয়োজন ছাড়া মানুষের কাছে হাত পাতা ভালো নয়।
- সাহায্য চাইলে সেটি প্রয়োজনের সীমার মধ্যে হওয়া উচিত।
