১/৫. অধ্যায়ঃ

মোজার উপর মাসাহ - মোজার উপর মাসাহ করার পরিমাণ

মুজার উপর ও নিচে মাসাহ: দুর্বল সানাদের আলোকে সতর্ক আলোচনা

বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৫৯

وَلِلْأَرْبَعَةِ عَنْهُ إِلَّا النَّسَائِيَّ: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - مَسَحَ أَعْلَى الْخُفِّ وَأَسْفَلَهُ. وَفِي إِسْنَادِهِ ضَعْفٌ

বর্ণনাকারী হতে বর্ণিতঃ

নাসায়ী ব্যতীত সুন্নান চতুষ্টয়ে (আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ) বর্ণিত আছে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চামড়ার মোজার উপরে ও নীচের দিকে মাসাহ করে নিলেন। এটার সানাদ দুর্বল। [৭৫]

[৭৫] যঈফ। আবূ দাঊদ (১৬৫) তিরমিযী (৯৭), ইবনু মাজাহ (৫৫০); এ হাদীসে কয়েকটি ত্রুটি আছে। সকল ইমাম এ হাদীটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম তিরমিযী তাঁর সুনানে (৯৭) ইমাম বুখারী একে বিশুদ্ধ নয় বলেছেন। এবং ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটিতে ত্রুটির কথা বলেছেন। ইমাম বাগাবী তাঁর আশ শারহুস সুন্নাহ (১/৩৩৩) গ্রন্থে বলেন, (আরবী) । ইবনু কাসীর তাঁর ইরশাদুল ফাকীহ (১/৪৬) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, হাদীসটি মুরসালরূপে বর্নিত হয়েছে। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর গায়াতুল মাকসূদ (২/৫২)ও আওনুল মা‘বূদ (১/১৪০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়াযী (১/২৩৫) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটির ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের বিতর্ক রয়েছে। ইবনু উসাইমীন তাঁর শহরহে বুলুগুল মারাম (১/২২৪) গ্রন্থে, বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম (৯০) গ্রন্থে, শাইখ আলবানী যঈফ তিরমিযী (৯৭) ও যঈফ ইবনু মাজাহ (১০৮) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর ইলালুল কাবীর (৫৬) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটি সহীহ নয়। ইবনু আবদুল বার তাঁর আল ইসতিযকার (১/২৬৯) গ্রন্থে বলেন, এর বর্ণনাকারী সাত্তর বিন যায়দ তিনি রাজা বিন হুওয়াই থেকে হাদীসটি শুনেননি।

বুলুগুল মারাম হাদিস ৫৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বলা হয়েছে, নাসায়ী ছাড়া সুন্নান চতুষ্টয়ের বাকি গ্রন্থে মুগীরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম চামড়ার মুজার উপরের দিক ও নিচের দিক মাসাহ করেছেন। কিন্তু অনুবাদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এটার সানাদ দুর্বল। তাই এই বর্ণনা দিয়ে শক্তভাবে বলা যাবে না যে, মুজার নিচে মাসাহ করাই নিয়ম। বরং হাদিসটি পড়লে বুঝতে হয়, হাদিসের বিষয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার সনদের মানও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। “মোজার নিচে মাসাহ” বা “মুজার উপর ও নিচে মাসাহ” বিষয়ে আলোচনা করলে দুর্বলতার কথা অবশ্যই বলা দরকার। এতে পাঠক বিভ্রান্ত না হয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ধারণা পায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুজার উপর ও নিচে মাসাহের এই বর্ণনা দুর্বল সানাদে এসেছে।
  • দুর্বল সানাদ দিয়ে শক্ত নিয়ম বানানো ঠিক নয়।
  • হাদিসের মান উল্লেখ করা ইলমের আমানত।
  • মুজা মাসাহ বিষয়ে সহীহ বর্ণনার সঙ্গে তুলনা করা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন