১/৪. অধ্যায়ঃ
উযূর বিবরণ - কতটুকু পরিমাণ পানি দিয়ে উযূ ও গোসল যথেষ্ট হবে
ওজুতে কত পানি লাগে: নবীজির পরিমিত পানি ব্যবহারের শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৫৬
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৫৬
وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ, وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ إِلَى خَمْسَةِ أَمْدَادٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
“রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ‘মুদ্দ’ (ছয় শত গ্রাম) পানি দিয়ে ওজু ও এক সা‘ (আড়াই কেজির সামান্য বেশী) থেকে পাঁচ ‘মুদ্দ’ পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করতেন।” (এক সা‘ অর্থাৎ ৪ মুদ বা ২৬৬০ গ্রাম) [৭১]
[৭১] বুখারী (২০১); মুসলিম (৫১, ৩২৫)
বুলুগুল মারাম হাদিস ৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে পানি ব্যবহারের একটি খুব দরকারি শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক মুদ পানি দিয়ে ওজু করতেন এবং এক সা‘ থেকে পাঁচ মুদ পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন। অনুবাদে এক সা‘ সম্পর্কে ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। মূল শিক্ষা হলো, পবিত্রতা অর্জনের জন্য পানি ব্যবহার করা দরকার, কিন্তু অপচয় করা দরকার নেই। ওজু ও গোসল—দুটিই পরিচ্ছন্নতার বড় ইবাদত, তবু নবীজির আমলে পানি ছিল মাপা ও পরিমিত। “ওজুতে কত পানি লাগে”, “গোসলের পানি পরিমাণ” বা “পানি অপচয় না করা” বিষয়ে এই হাদিসটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে নির্দিষ্ট পরিমাণের আমল বর্ণিত; সব পরিস্থিতিতে একই পরিমাণ বাধ্যতামূলক বলা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওজুতে পানি পরিমিত ব্যবহার করা শেখা যায়।
- গোসলেও অতিরিক্ত পানি খরচ না করার শিক্ষা আছে।
- পবিত্রতা অর্জনে পানি লাগলেও অপচয় দরকার নেই।
- হাদিসে নবীজির বাস্তব আমলের পরিমাণ এসেছে।
