২/১৬. অধ্যায়ঃ
সালাতুল ইসতিসকা বা বৃষ্টির জন্য সালাত - পূৰ্ববতী উম্মতের মাঝে বৃষ্টি প্রার্থনার প্রচলন ছিল
পিঁপড়ের দোয়া: ইসতিসকায় আল্লাহর রহমতের শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৫২২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৫২২
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «خَرَجَ سُلَيْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَسْتَسْقِي, فَرَأَى نَمْلَةً مُسْتَلْقِيَةً عَلَى ظَهْرِهَا رَافِعَةً قَوَائِمَهَا إِلَى السَّمَاءِ تَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنَّا خَلْقٌ مِنْ خَلْقِكَ, لَيْسَ بِنَا غِنًى عَنْ سُقْيَاكَ, فَقَالَ: ارْجِعُوا لَقَدْ سُقِيتُمْ بِدَعْوَةِ غَيْرِكُمْ». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন , ইসতিকার সালাত আদায়ের জন্য সুলাইমান (আঃ) বের হয়ে এসে দেখলেন যে, একটি পিঁপড়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পা-গুলাকে আকাশের দিকে করে এই বলে প্রার্থনা করছে , হে আল্লাহ ! আমরা তোমার সৃষ্টির মধ্যে এক প্রকার সৃষ্ট জীব –আমরা তোমার পানির পূর্ণ মুখাপেক্ষী রয়েছি । এটা শুনে সুলাইমান (আঃ) তাঁর সঙ্গিদের বললেন, তোমরা ফিরে চলো—অন্যর প্রার্থনার ফলে তোমরাও পানি পেয়ে গেলে । হাকিম একে সহীহ বলেছেন । [৫৫৮]
[৫৫৮] হাকিম ১/৩২৫-৩২৬ । আলবানী ইরওয়াউল গালীল (৬৭০) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৫২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সুলাইমান আলাইহিস সালামের একটি ঘটনা বলা হয়েছে। তিনি ইসতিসকার জন্য বের হলে একটি পিঁপড়ে দেখতে পেলেন। পিঁপড়েটি চিৎ হয়ে শুয়ে পা আকাশের দিকে তুলে আল্লাহর কাছে বলছিল, আমরা তোমার সৃষ্টির এক সৃষ্টি; তোমার পানির মুখাপেক্ষী। এই দৃশ্য দেখে সুলাইমান আলাইহিস সালাম সঙ্গীদের বললেন, ফিরে চলো, অন্যের দোয়ার কারণে তোমরাও পানি পেয়ে গেলে। এখানে বৃষ্টি প্রার্থনার পাশাপাশি আল্লাহর সৃষ্টির দুর্বলতা ও মুখাপেক্ষীতা বোঝা যায়। ছোট একটি প্রাণীর দোয়াও আল্লাহর দরবারে উপেক্ষিত নয়—হাদিসের ভাষ্য আমাদের এই নরম শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর কাছে সব সৃষ্টি মুখাপেক্ষী, মানুষও তার বাইরে নয়।
- ইসতিসকার সময় বিনয় ও অভাবের অনুভূতি থাকা দরকার।
- ছোট প্রাণীর দোয়ার ঘটনাও আল্লাহর রহমতের কথা মনে করায়।
- বৃষ্টি শুধু মানুষের নয়, সব সৃষ্টির প্রয়োজন।
