২/১৬. অধ্যায়ঃ
সালাতুল ইসতিসকা বা বৃষ্টির জন্য সালাত - বৃষ্টি প্রার্থনার সালাতের পদ্ধতি ও তার খুতবা
অনাবৃষ্টিতে ইসতিসকার দোয়া, চাদর উল্টানো ও সালাত
বুলুগুল মারাম : ৫১৪
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৫১৪
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: شَكَا النَّاسُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قُحُوطَ الْمَطَرِ, فَأَمَرَ بِمِنْبَرٍ, فَوُضِعَ لَهُ فِي الْمُصَلَّى, وَوَعَدَ النَّاسَ يَوْمًا يَخْرُجُونَ فِيهِ, فَخَرَجَ حِينَ بَدَا حَاجِبُ الشَّمْسِ, فَقَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ, فَكَبَّرَ وَحَمِدَ اللَّهَ, ثُمَّ قَالَ: «إِنَّكُمْ شَكَوْتُمْ جَدَبَ دِيَارِكُمْ, وَقَدْ أَمَرَكُمْ اللَّهُ أَنْ تَدْعُوَهُ, وَوَعَدَكُمْ أَنْ يَسْتَجِيبَ لَكُمْ, ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ, الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ, مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ, لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ, اللَّهُمَّ أَنْتَ اللَّهُ, لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ, أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ, أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ, وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ قُوَّةً وَبَلَاغًا إِلَى حِينٍ»، ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ, فَلَمْ يَزَلْ حَتَّى رُئِيَ بَيَاضُ إِبِطَيْهِ, ثُمَّ حَوَّلَ إِلَى النَّاسِ ظَهْرَهُ, وَقَلَبَ رِدَاءَهُ, وَهُوَ رَافِعٌ يَدَيْهِ, ثُمَّ أَقْبِلَ عَلَى النَّاسِ وَنَزَلَ, وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ, فَأَنْشَأَ اللَّهُ سَحَابَةً, فَرَعَدَتْ, وَبَرَقَتْ, ثُمَّ أَمْطَرَتْرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ: «غَرِيبٌ, وَإِسْنَادُهُ جَيِّدٌ». (1)وَقِصَّةُ التَّحْوِيلِ فِي «الصَّحِيحِ» مِنْ
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকটে অনাবৃষ্টির অভিযোগ জানালে তিনি মিম্বার আনার আদেশ দিলেন-যেটি তার জন্য মুসল্লায় (মাঠে) পাতা হয়েছিল, তিনি লোকদিগকে সালাতের উদ্দেশে বের হবার জন্য একটি ধার্য দিনের ওয়াদাও করলেন। তারপর তিনি সূর্যের একাংশ প্রকাশিত হবার সময় বেরিয়ে পড়লেন। এবং মিম্বারের উপর বসলেন, তারপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও তার মহিমা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, তোমরা তোমাদের অঞ্চলে খরা-পীড়িত হবার কথা বলেছ, আর আল্লাহও (বিপদ মুক্তির জন্য) তার নিকট প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদের প্রার্থনা গ্রহণ করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। এ বলে তিনি দোয়া আরম্ভ করলেন- উচ্চারণ ঃ আলহামদু লিল্লাহ রব্বিল ‘আলামীন। আররহমানির রহীম। মালিকি ইয়াউমিদীন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। ইয়াফ'আলু মা ইউরীদ। আল্লাহুম্মা আনতাল্লাহ। লা ইলাহা ইল্লা আনতা। আনতাল গানী। ওয়া নাহনুল ফুকারাউ । আনযিল 'আলাইনাল গাইসা। ওয়াজ'আল মা আনযালতা ‘আলাইনা কুওওয়াতান ওয়া বালাগান ইলা হীন। অর্থ ৪ “সকল প্রশংসা আল্লাহর নিমিত্তে যিনি সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক। তিনি করুণাময় অত্যন্ত দয়ালু। বিচার দিনের মালিক। আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি যা ইচ্ছা করতে পারেন। হে আল্লাহ! তুমিই আল্লাহ, তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তুমি ধনাঢ্য আর আমরা অভাবগ্ৰস্ত, আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর, তুমি যা আমাদের জন্য বর্ষণ করবে তাকে আমাদের জন্য শক্তির আধার কর ও এটাকে বিশেষ সময়ের জন্য উদ্দেশ্য পূরণের উপযোগী কর।” তারপর তিনি তার দুহাত উঠালেন ও তার বগলের শুভ্রতা প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত তা উচু করতেই থাকলেন। তারপর তিনি লোকেদের দিকে পিঠ করলেন ও হাত উত্তোলন অবস্থায় তার চাদরকে উলটিয়ে নিলেন। এবারে আবার তিনি লোকেদের দিকে পুনঃ মুখ ফিরালেন ও মিম্বার হতে নামলেন। তারপর দু’রাকাআত সলাত আদায় করলেন। এরপরে আল্লাহ একখণ্ড মেঘের উদ্ভাবন করলেন- মেঘ গর্জন করতে লাগল, বিদ্যুৎ চমকাল তারপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো। -আবু দাউদ গরীব বলেছেন, এর সানাদ জাইয়্যিদ (উত্তম)। [৫৫০]
[৫৫০] আবূ দাউদ ১১৭৩
বুলুগুল মারাম হাদিস ৫১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে অনাবৃষ্টির সময় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কীভাবে ইসতিসকার ব্যবস্থা করেছিলেন তা এসেছে। লোকেরা খরার অভিযোগ করলে তিনি মিম্বার আনতে বললেন, মাঠে যাওয়ার দিন নির্ধারণ করলেন এবং সূর্যের একাংশ ওঠার সময় বের হলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তাকবীর বললেন, মানুষের অভাবের কথা উল্লেখ করলেন এবং আল্লাহর কাছে বৃষ্টি চেয়ে দোয়া করলেন। তিনি হাত উঁচু করলেন, কিবলামুখী অবস্থায় চাদর উল্টালেন, তারপর দুই রাকআত সালাত আদায় করলেন। এরপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো। “ইসতিসকার দোয়া”, “অনাবৃষ্টির নামাজ” এবং “চাদর উল্টানো”—এসব কীওয়ার্ড এই হাদিসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অনাবৃষ্টিতে আল্লাহর কাছে দোয়া ও সালাতের মাধ্যমে ফিরে যাওয়ার শিক্ষা আছে।
- নবীজি মানুষের অভাবকে আল্লাহর সামনে তুলে ধরেছেন।
- ইসতিসকায় হাত তোলা, চাদর উল্টানো ও দুই রাকআত সালাতের বর্ণনা এসেছে।
