২/১৫. অধ্যায়ঃ
চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সালাত - বাতাস জোরে প্রবাহিত হলে বা ঝড়ের অবস্থায় যা বলতে হয়
ঝড়ো হাওয়ার সময় নবীজির দুয়া: রহমত চাই, আযাব নয়
বুলুগুল মারাম : ৫১০
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৫১০
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: مَا هَبَّتْ رِيحٌ قَطُّ إِلَّا جَثَا النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - عَلَى رُكْبَتَيْهِ, وَقَالَ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا رَحْمَةً, وَلَا تَجْعَلَهَا عَذَابًا». رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ وَالطَّبَرَانِيُّ
ইবনু ‘আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিতঃ
প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাঁটু পেতে বসে পড়তেন আর এই বলে দু’আ করতেন – হে আল্লাহ! তুমি একে আমাদের জন্য রহমত (কল্যাণপ্রসূ) কর আর তাকে তুমি ‘আযাবে পরিণত করো না। - শাফি’ঈ ও ত্ববারানী। [৫৪৮]
[৫৪৮] নাসিরুদ্দিন আলবানী তাখরীজ মিশকাত (১৪৬৪) এর সনদ কে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন, সিলসিলা যইফা (৫৬০০) গ্রন্থে বলেছেন, এ সংক্রান্ত সবই মুনকার। ইমাম যায়লায়ী তাখরীজুল কাশশাফ (৩/৫৯) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে হুসাইন বিন কায়েস রয়েছে যাকে ইমাম আহমাদ ও নাসায়ী দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। এর অন্য একটি সনদ রয়েছে। আলবানীর সিলসিলা যয়ীফা (৪২১৭) গ্রন্থেও হাদীসটিকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৫১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে প্রবল ঝড়ো হাওয়ার সময় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আচরণ ও দুয়া বর্ণিত হয়েছে। ইবনু আব্বাস রাঃ বলেন, প্রবল বাতাস বইলে নবীজি হাঁটু পেতে বসতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ, তুমি একে আমাদের জন্য রহমত করো, আযাব বানিও না। এখানে মূল শিক্ষা হলো, প্রকৃতির শক্তিশালী দৃশ্য দেখলে মানুষ যেন অহেতুক ভয় বা কথাবার্তায় না ডুবে যায়; বরং আল্লাহর কাছে কল্যাণ চায়। “ঝড়ের দোয়া”, “বাতাসের দোয়া” এবং “প্রবল হাওয়ার সময় কী পড়তে হয়”—এসব সার্চের জন্য হাদিসটি খুব প্রাসঙ্গিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রবল বাতাস দেখলে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া উচিত।
- ঝড়কে রহমত বানানোর এবং আযাব না বানানোর দুয়া এই হাদিসে এসেছে।
- ভয়াবহ প্রকৃতির সামনে নবীজি বিনয়ীভাবে আল্লাহর দিকে ফিরতেন।
