১/৪. অধ্যায়ঃ
উযূর বিবরণ - মাথা মাসাহ করার জন্য নতুন পানি গ্ৰহণ করা শরীয়তসম্মত
কান মাসাহের নিয়ম: মাথা মাসাহের পানির সঙ্গে বর্ণনার পার্থক্য
বুলুগুল মারাম : ৪২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৪২
وَعَنْهُ: أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - يَأْخُذُ لِأُذُنَيْهِ مَاءً خِلَافَ الْمَاءِ الَّذِي أَخَذَ لِرَأْسِهِ. أَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّوَهُوَ عِنْدَ مُسْلِمٍ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ بِلَفْظٍ: وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ بِمَاءٍ غَيْرَ فَضْلِ يَدَيْهِ, وَهُوَ الْمَحْفُوظُ
আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে মাথা মাসাহ -এর অবশিষ্ট পানি ব্যতীত কান মাসহ করতে নতুনভাবে পানি নিতে দেখেছেন। [৫৪]মুসলিমের সুরক্ষিত শব্দ বিন্যাস এরুপ- ‘এবং তিনি তাঁর মাথা মাসহ করেছিলেন। তাঁর হস্তদ্বয়ের অবশিষ্ট পানি ব্যতীত অন্য পানি দিয়ে।’ [৫৫] [হাদিসের প্রথম অংশ শায ও দ্বিতীয় অংশ মাহফুয, শায প্রত্যাখ্যাত ও মাহফুয গ্রহণীয়]
[৫৪] বায়হাক্বী (১/৬৫), বায়হাক্বী বলেন হাদীসটির সনদ সহীহ। তিরমিযীও একে সহীহ বলেছেন। ইমাম নাবাবী তার আল মাজমূ’ (১/৪১২) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইবনু উসাইমীন আশ-শারহুল মুমত্বী (১/১৭৮) ও শারহে বুলুগুল মারাম (১/১৮৯) গ্রন্থে হাদীসটিকে শায বলেছেন। শাতখ আলবানী সিলসিলা সহীহা (১/৯০৫) গ্রন্থে হাদীসটি শায ও সহীহ নয়।[৫৫] মুসলিম (২৩৬), ইমাম বায়হাক্বী বলেন, এটি পুর্বে এ বিষয়ে বর্নীত হাদীসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহীহ।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওজুর সময় কান মাসাহ এবং মাথা মাসাহের পানির বিষয়ে বর্ণনা এসেছে। প্রথম অংশে বলা হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কানের জন্য মাথার পানির বাইরে নতুন পানি নিতেন। কিন্তু অনুবাদেই উল্লেখ আছে, মুসলিমের সংরক্ষিত শব্দে এসেছে—তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করেছিলেন হাতের অবশিষ্ট পানি ছাড়া অন্য পানি দিয়ে। এখানে বর্ণনার মানের দিকটিও স্পষ্ট করা হয়েছে: প্রথম অংশ শায, দ্বিতীয় অংশ মাহফুয। তাই এই হাদিসের ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত দাবি না করে বলা যায়, ওজুর মাসাহ সম্পর্কিত বর্ণনা বুঝতে শব্দ ও সনদের পার্থক্য জানা দরকার। “কান মাসাহের নিয়ম”, “মাথা মাসাহ” ও “ওজুতে মাসাহ” বিষয়ে এ হাদিস শিক্ষণীয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিস বুঝতে সংরক্ষিত শব্দকে গুরুত্ব দিতে হয়।
- কান ও মাথা মাসাহের বর্ণনায় সতর্কতা দরকার।
- শায ও মাহফুয বর্ণনার পার্থক্য জানা উপকারী।
- ওজুর মাসাহ বিষয়ে অতিরিক্ত দাবি করা উচিত নয়।
