২/১০. অধ্যায়ঃ
জামা’আতে সালাত সম্পাদন ও ইমামতি - কাতারের পিছনে একাকী সালাত আদায়কারীর বিধান
কাতারে পৌঁছার আগে রুকু: আগ্রহ ভালো, পদ্ধতিও ঠিক হওয়া চাই
বুলুগুল মারাম : ৪১৮
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৪১৮
وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - وَهُوَ رَاكِعٌ, فَرَكَعَ قَبْلَ أَنْ يَصِلَ إِلَى الصَّفِّ, فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا، وَلَا تَعُدْ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ. (1)وَزَادَ أَبُو دَاوُدَ فِيهِ: فَرَكَعَ دُونَ الصَّفِّ, ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّفِّ
আবূ বাক্রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এমন অবস্থায় পৌঁছলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন রুকূ’তে ছিলেন। তখন কাতার পর্যন্ত পৌছার পূর্বেই তিনি রুকূ’তে চলে যান। (এ ঘটনা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ব্যক্ত করা হলে) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, আল্লাহ তা'আলা তোমার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিন। তবে এ রকম আর করবে না। আবূ দাউদ বৃদ্ধি করেছেনঃ তিনি সালাতের সারি পর্যন্ত না পৌঁছে রুকূ করেন, অতঃপর রুকূর অবস্থায় এগিয়ে গিয়ে সারিতে সামিল হন। [৪৫৯]
[৪৫৯] বুখারী ৭৮৩, নাসায়ী ৮৭১, আবূ দাউদ ৬৮৩, ৬৮৪, আহমাদ ১৯৮৯২, ১৯৯২২, ১৯৯৯৪। আবূ দাউদের বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, (আরবী) তোমাদের মধ্যে কে কাতারে না পৌঁছে রুকু আরম্ভ করে, অতঃপর এ অবস্থায় কাতারে শামিল হয়?
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ বকরাহ (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছলেন, তখন নবীজি রুকুতে ছিলেন। তিনি কাতারে পৌঁছার আগেই রুকুতে চলে যান এবং পরে রুকুর অবস্থায় কাতারে যোগ করেন—আবূ দাউদের বর্ধিত অংশে এটি এসেছে। নবীজি তাঁকে বলেন, আল্লাহ তোমার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিন, তবে এ রকম আর করবে না। এই বাক্যটি খুব ভারসাম্যপূর্ণ। আগ্রহের প্রশংসা আছে, কিন্তু ভুল পদ্ধতির সংশোধনও আছে। তাই জামাআতে দৌড়ে বা তাড়াহুড়া করে রুকু ধরার বদলে সালাতের আদব, কাতারে যোগ দেওয়া এবং ইমামের অনুসরণ—এসব ঠিক রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে আগ্রহ ভালো, কিন্তু পদ্ধতি ঠিক হওয়া দরকার।
- কাতারে পৌঁছার আগে রুকুতে যাওয়া নিষেধ করা হয়েছে।
- নবীজি আগ্রহের জন্য দোয়া করেছেন, আবার ভুলও সংশোধন করেছেন।
- জামাআতে যোগ দিতে গিয়ে শৃঙ্খলা ভাঙা উচিত নয়।
