২/১০. অধ্যায়ঃ
জামা’আতে সালাত সম্পাদন ও ইমামতি - আযান শ্রবণ করা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি জামা’আতে উপস্থিত না হয় তার বিধান
আযান শুনেও জামাআতে না যাওয়া: ওযর থাকলে ভিন্ন কথা
বুলুগুল মারাম : ৪০৩
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৪০৩
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا, عَنْ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يَأْتِ فَلَا صَلَاةَ لَهُ إِلَّا مِنْ عُذْرٍ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ, وَالدَّارَقُطْنِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ, وَإِسْنَادُهُ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ, لَكِنْ رَجَّحَ بَعْضُهُمْ وَقْفَهُ
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আযান শুনার পরও যে জামা'আতে হাজির হয় না তার সালাত (শুদ্ধ) হয় না তবে যদি ওযর (শারিয়াত সম্মত কোন কারণ) থাকে তাহলে তা স্বতন্ত্র ব্যাপার হবে । ইবনু মাজা, দারাকুৎনী, ইবনু হিব্বান, হাকিম; এর সানাদ মুসলিমের সানাদের শর্তানুযায়ী । কিন্তু মুহাদ্দিসীনের কেউ কেউ ''মউকুফ" হাদীস বলেছেন । [৪৪৪]
[৪৪৪] আবূ দাঊদ ৫৫১, ইবনু মাজাহ ৭৯৩, দারেমী ৪২০
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আযান শুনেও জামাআতে হাজির হয় না, তার সালাত নেই—তবে ওযর থাকলে বিষয়টি আলাদা। বর্ণনার শেষে সনদ নিয়ে আলেমদের আলোচনা উল্লেখ আছে; কেউ কেউ এটিকে মওকুফ বলেছেন। তাই ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা দরকার। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, আযান শুনে জামাআতকে অবহেলা করা ঠিক নয়। এখানে ‘ওযর’ শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ শরিয়তসম্মত বাধা থাকলে তা আলাদা বিষয়। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়া শুধু অলসতা বা গাফিলতির কারণে মসজিদের জামাআত ছেড়ে দেওয়া মুমিনের জন্য ভালো অভ্যাস নয়। তাই আযানের ডাক, জামাআতে সালাত, মসজিদে হাজির হওয়া এবং সালাতের দায়িত্ব—এসব বিষয়ে হাদিসটি আমাদের সজাগ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযান শোনার পর জামাআতের ব্যাপারে উদাসীন হওয়া উচিত নয়।
- শরিয়তসম্মত ওযর থাকলে সেটি আলাদা বিবেচ্য।
- হাদিসের সনদ আলোচনার কারণে ব্যাখ্যায় সতর্কতা দরকার।
- সালাতকে শুধু ব্যক্তিগত কাজ নয়, জামাআতের আমল হিসেবেও দেখা দরকার।
