২/১০. অধ্যায়ঃ
জামা’আতে সালাত সম্পাদন ও ইমামতি - ইশা ও ফজরের জামায়াত থেকে দূরে অবস্থানকারীর জন্য সতর্কবাণী
ফজর ও ইশার জামাআত: মুনাফিকদের জন্য ভারী সালাতের শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৪০১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৪০১
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَثْقَلُ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ: صَلَاةُ الْعِشَاءِ, وَصَلَاةُ الْفَجْرِ, وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুনাফিকদের জন্য ফাজর ও 'ইশার সালাত অধিক ভারী । এ দু' সালাতের কি ফাযীলাত, তা যদি তারা জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো । [৪৪২]
[৪৪২] বুখারী ৬৪৪, ২৪২০, ৭২২৪, মুসলিম ৬৫১, তিরমিযী ২১৭, নাসায়ী ৮৪৮, আবূ দাঊদ ৫৪৮, ৫৪৯, ইবনু মাজাহ ৭৯১, আহমাদ ৭২৬০, ৭৮৫৬, মুওয়াত্তা মালেক ২৯২, ,দারেমী ১২১২, ১২৭৪ ।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজর ও ইশার সালাতকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মুনাফিকদের জন্য এই দুই সালাত বেশি ভারী। কারণ এই সময়ের সালাতে উপস্থিত হতে ঘুম, অন্ধকার, অলসতা বা আরামের টান বেশি কাজ করতে পারে। কিন্তু হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—ফজর ও ইশার জামাআত হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। যারা এ দুই সালাতের ফযীলত জানত, তারা হামাগুড়ি দিয়েও হাজির হতে চাইত। তাই ফজরের নামাজ, ইশার নামাজ, জামাআতে সালাত এবং আযানের ডাকে সাড়া দেওয়া—এসব বিষয়ে একজন মুমিনের মন সচেতন হওয়া দরকার। এখানে কোনো মানুষকে সরাসরি মুনাফিক বলা হয়নি; বরং অলসতার বিপদ বুঝানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজর ও ইশার জামাআতকে অবহেলা করা উচিত নয়।
- সালাতের ফযীলত জানলে ইবাদতে আগ্রহ বাড়ে।
- আলস্য ও আরামের কারণে জামাআত ছেড়ে দেওয়া বিপজ্জনক অভ্যাস হতে পারে।
- আযানের ডাকে সাড়া দেওয়া মুমিনের সচেতনতার পরিচয়।
