২/৯. অধ্যায়ঃ
নফল সালাত-এর বিবরণ - রাতের শেষ ভাগে বিতর পড়ার ফযীলত
বিতর নামাজ কখন পড়া ভালো: নিজের অবস্থার দিকে তাকানো
বুলুগুল মারাম : ৩৮৯
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৩৮৯
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ خَافَ أَنْ لَا يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرْ أَوَّلَهُ, وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ فَلْيُوتِرْ آخِرَ اللَّيْلِ, فَإِنَّ صَلَاةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ, وَذَلِكَ أَفْضَلُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগতে না পারার আশঙ্কা করবে সে যেন রাতের প্রথমাংশেই বিতর সালাত আদায় করে নেয়। আর যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগ্রত হবার আস্থা রাখবে- সে শেষ রাতেই তা পড়বে । কেননা শেষ রাতের সালাত আল্লাহর দরবারে উপস্থাপিত হয়ে থাকে। এবং এটাই উত্তম। [৪৩০]
[৪৩০] মুসলিম ৭৫৫, তিরমিযী ৪৫৫, ইবনু মাজাহ ১১৮৭, আহমাদ ১৩৭২
বুলুগুল মারাম হাদিস ৩৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব বাস্তব একটি দিক শিখিয়েছেন। যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগতে না পারার আশঙ্কা করে, সে রাতের প্রথম অংশেই বিতর পড়ে নেবে। আর যে শেষ রাতে উঠতে পারবে বলে আশা রাখে, সে শেষ রাতেই বিতর পড়বে। কারণ শেষ রাতের সালাত আল্লাহর দরবারে উপস্থাপিত হয় এবং সেটিই উত্তম বলা হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো ইবাদতে নিজের সক্ষমতা বুঝে পরিকল্পনা করা। কেউ যদি জানে, তার ঘুম ভাঙে না, তাহলে আগে বিতর পড়ে নেওয়া ভালো। আর কেউ নিয়মিত শেষ রাতে উঠতে পারে, সে শেষ রাতের সুযোগ নিতে পারে। হাদিসটি ভারসাম্যপূর্ণ আমল শেখায়, কঠিন করে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শেষ রাতে উঠতে না পারার ভয় থাকলে আগে বিতর পড়া যেতে পারে।
- শেষ রাতে উঠার আস্থা থাকলে শেষ রাতের বিতর উত্তম বলা হয়েছে।
- ইবাদতে নিজের বাস্তব অবস্থা বুঝে পরিকল্পনা করা দরকার।
