২/৯. অধ্যায়ঃ
নফল সালাত-এর বিবরণ - মাগরিব সালাতের পূর্বে দুরাক’আত নফলের বিধান
সূর্যাস্তের পর দুই রাকআত নফল সালাত: হাদিসের সহজ ব্যাখ্যা
বুলুগুল মারাম : ৩৬১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৩৬১
وَلِمُسْلِمٍ عَنْ أَنَسٍ [قَالَ]: كُنَّا نُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ غُرُوبِ الشَّمْسِ, فَكَانَ - صلى الله عليه وسلم - يَرَانَا, فَلَمْ يَأْمُرْنَا وَلَمْ يَنْهَانَا
মুসলিমে আছে ‘আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা সুর্যাস্তের পর দু’ রাক’আত সলাত আদায় করতাম। নবী (সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের দেখতেন এবং আমাদের সেটা করার জন্য হুকুমও করতেন না, নিষেধ ও করতেন না। [৪০২]
[৪০২] মুসলিম ৮৩৬, বুখারী ৫০৩, ৬২৫, ৪৩৭০, নাসায়ী ৬৮২, আবু দাউদ ১২৮২, ইবনু মাজাহ ১১৬৩, আহমাদ ১১৯০১, ১২৬৪৫, দারেমী ১৪৪১
বুলুগুল মারাম হাদিস ৩৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় একটি সহজ ঘটনা এসেছে। সাহাবাগণ সূর্যাস্তের পর দুই রাকআত সালাত আদায় করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের দেখতেন। কিন্তু তিনি তাঁদের এ কাজ করার জন্য সরাসরি আদেশও করতেন না, আবার নিষেধও করতেন না। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কিছু আমলের ক্ষেত্রে নবীজির নীরব দেখাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। এখানে সূর্যাস্তের পর দুই রাকআত নফল সালাতের কথা এসেছে, তবে হাদিসে এটিকে বাধ্যতামূলক বলা হয়নি। আবার নিষেধের কথাও নেই। তাই ব্যাখ্যায় বাড়তি দাবি করা ঠিক নয়। সহজভাবে বলা যায়, সাহাবাগণ ইবাদতে আগ্রহী ছিলেন, আর নবীজি তাঁদের কাজ দেখেও চুপ ছিলেন। এই হাদিস নফল সালাত, মাগরিবের আগে সালাত এবং সাহাবাদের আমল জানতে আগ্রহী পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবাগণ সূর্যাস্তের পর দুই রাকআত সালাত আদায় করতেন।
- নবীজি তাঁদের দেখেছেন, কিন্তু সরাসরি আদেশ বা নিষেধ করেননি।
- নফল সালাতের বিষয়ে হাদিসের ভাষার সীমা মেনে কথা বলা দরকার।
- ইবাদতে আগ্রহ ভালো, তবে দলিলের বাইরে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়।
