২/৭. অধ্যায়ঃ
সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি - ফরয সালাতের পরে যিকরসমূহের বিবরণ
নামাজের পর ৩৩ বার তাসবিহ: সহজ যিকিরের বড় শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৩২৪
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৩২৪
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - عَنْ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ سَبَّحَ اللَّهَ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ, وَحَمِدَ اللَّهِ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ, وَكَبَّرَ اللَّهُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ, فَتِلْكَ تِسْعٌ وَتِسْعُونَ, وَقَالَ تَمَامَ الْمِائَةِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ, لَهُ الْمُلْكُ, وَلَهُ الْحَمْدُ, وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ, غُفِرَتْ لَهُ خَطَايَاهُ, وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ[وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى: أَنَّ التَّكْبِيرَ أَرْبَعٌ وَثَلَاثُونَ]
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্তের (ফার্য) সালাতের পরে ৩৩ বার সুব্হানাল্লাহ, ৩৩ বার আল হ’মদুলিল্লাহ্ ও ৩৩ বার আল্লাহু আকবার বলবে- এটা মোট ৯৯ বার হলে একশো পূরণ করার জন্য বলবে- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহু, লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর। অর্থঃ এক মাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন স্রষ্টা নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, আধিপত্য তাঁর, প্রশংসা তাঁর এবং তিনি সকল শক্তির অধিকারী। যে ব্যক্তি পাঠ করবে তার পাপরাশি ক্ষমা করা হবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়ে থাকে। অন্য বর্ণনায় আছে- “আল্লাহু আকবার” চৌত্রিশ বার বলবে। [৩৬৩]
[৩৬৩] মুসলিম ৫৯৭, আবূ দাঊদ ১৫০৪, আহমাদ ৮৬১৬, ৯৮৯৭, মুওয়াত্তা মালেক ৪৮৮, ৩২৫, হাদীসটি সহীহ। আর তা কা’ব বিন উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থ “সুবুলুস সালামে” বলা হয়েছে, তা আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর হাদীস আর তা ভুল।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৩২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফরজ সালাতের পর যিকিরের একটি পরিচিত নিয়ম এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৩ বার আল্লাহু আকবার বলবে, তা ৯৯ হয়। এরপর একশ পূর্ণ করার জন্য তাওহীদের বাক্য বলবে। এই যিকিরে আল্লাহর পবিত্রতা, প্রশংসা, বড়ত্ব এবং একত্ব একসাথে স্মরণ করা হয়। হাদিসে পাপ ক্ষমার কথা এসেছে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো হয়। অন্য বর্ণনায় তাকবির ৩৪ বার বলার কথাও উল্লেখ আছে। তাই এই আমল সালাতের পর যিকির হিসেবে খুব অর্থবহ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফরজ সালাতের পর তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবির বলা সুন্নাহসম্মত যিকির।
- এই যিকিরে আল্লাহর পবিত্রতা, প্রশংসা ও বড়ত্ব একসাথে স্মরণ হয়।
- হাদিসে এই আমলের মাধ্যমে পাপ ক্ষমার সুসংবাদ এসেছে।
- অন্য বর্ণনায় তাকবির ৩৪ বার বলার পদ্ধতিও উল্লেখ আছে।
