২/৭. অধ্যায়ঃ
সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি - দুর্ঘটনা বা বিপদে দু’আয়ে কুনূত পাঠ করা শরীয়তসম্মত
দোয়া কুনূত: কোনো সম্প্রদায়ের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রার্থনার শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৩০৬
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৩০৬
وَعَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم: كَانَ لَا يَقْنُتُ إِلَّا إِذَا دَعَا لِقَوْمٍ, أَوْ دَعَا عَلَى قَوْمٍ. [ص: 90] صَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল কোন সম্প্রদায়ের পক্ষে দু’আ বা বিপক্ষে বদদু’আ (অভিসম্পাত) করার জন্য ‘কুনূত’ করতেন। ইবনু খুযাইমা একে সহীহ বলেছেন। [৩৪৩]
[৩৪৩] সিলসিলা সহীহা হাঃ ৬৩৯, মুসলিমের শর্তে এ হাদীসের সনদ সহীহ।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৩০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল তখনই কুনূত করতেন, যখন কোনো সম্প্রদায়ের পক্ষে দোয়া করতেন অথবা কোনো সম্প্রদায়ের বিপক্ষে বদদোয়া করতেন। এখানে কুনূতের উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। এটি সাধারণ আবেগের বিষয় নয়; বরং সালাতের ভেতর একটি নির্দিষ্ট দোয়ার অবস্থান। হাদিসটি কুনূত নাজেলা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে দোয়া ও বদদোয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে এই বর্ণনার বাইরে গিয়ে সব ধরনের কুনূতের সাধারণ বিধান টেনে আনা ঠিক হবে না। প্রদত্ত পাঠ থেকে সরাসরি যে শিক্ষা পাওয়া যায় তা হলো, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ ক্ষেত্রে কোনো দল বা সম্প্রদায়কে ঘিরে কুনূত করেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুনূত কখনো কোনো সম্প্রদায়ের পক্ষে দোয়ার জন্য করা হয়েছে।
- কুনূত কখনো কোনো সম্প্রদায়ের বিপক্ষে বদদোয়ার জন্যও হয়েছে।
- হাদিসের আলোচনায় কুনূতের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে আলাদা করে বোঝা দরকার।
