২/৭. অধ্যায়ঃ
সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি - সালাতে ক্বেরাত পাঠ করার পরিমাণ
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে কিরাআতের ভারসাম্য ও নববী মিল
বুলুগুল মারাম : ২৮৮
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ২৮৮
وَعَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ فُلَانٌ يُطِيلُ الْأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ, وَيُخَفِّفُ الْعَصْرَ, وَيَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ، وَفِي الْعِشَاءِ بِوَسَطِهِ وَفِي الصُّبْحِ بِطُولِهِ. فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: مَا صَلَّيْتُ وَرَاءَ أَحَدٍ أَشْبَهَ صَلَاةً بِرَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - مِنْ هَذَا. أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ
সুলাইমান বিন ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
অমুক সহাবী যুহরের ফরজ সালাতের প্রথম দু‘রাকা‘আতকে লম্বা করতেন ও ‘আসরকে হালকা করতেন এবং মাগরিবের সালাতে কুরআনের কিসারে মুফাস্সাল, ইশার সালাতে ওয়াসাতে মুফাস্সাল ও ফাজরের সালাতে তিওয়ালে মুফাসসালের সূরা পাঠ করতেন। অতঃপর আবু হুরাইরা (রাঃ) বললেন- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সালাতের সঙ্গে এর থেকে বেশী সাদৃশ্য পূর্ণ সলাত এ ব্যক্তি ছাড়া আর কারো পিছনে পড়ি নাই। -নাসায়ী সহীহ সানাদে। [৩২৫]
[৩২৫] ইবনু মাজাহ ৮২৭, নাসায়ী ৯৮২, ৯৮৩ (আরবী) ‘তিওয়ালে মুফাস্সাল’ –সূরা হুজুরাত হতে সূরা বুরুজ পর্যন্ত সূরাসমুহকে বলা হয়। (আরবী) ‘আওসাত্বে মুফাস্সাল’ –সূরা তারিক্ব হতে সূরা বাইয়্যেনা পর্যন্ত সূরাসমূহকে বলে। (আরবী) ’কিসারে মুফাস্সাল’ –সূরা যিলযাল হতে সূরা নাস পযন্ত সূরাসমূহকে বলা হয়। সূরা যিলযাল হতে সূরা নাস পর্যন্ত সূরা সমূহকে বলা হয়।
বুলুগুল মারাম হাদিস ২৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সুলাইমান বিন ইয়াসার (রহ.) একটি সালাতের ধরন বর্ণনা করেন। একজন সহাবী যুহরের ফরজ সালাতের প্রথম দুই রাকাত দীর্ঘ করতেন, আসর হালকা করতেন, মাগরিবে কিসারে মুফাস্সাল, ইশায় ওয়াসাতে মুফাস্সাল এবং ফজরে তিওয়ালে মুফাস্সালের সূরা পাঠ করতেন। এরপর আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাতের সঙ্গে এর চেয়ে বেশি মিল আছে এমন সালাত আর কারও পিছনে পড়েননি। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সালাতের কিরাআতে সময় ও ওয়াক্তভেদে ভারসাম্য ছিল। যুহর তুলনামূলক দীর্ঘ, আসর হালকা, মাগরিব ছোট সূরা, ইশা মাঝারি, ফজর দীর্ঘ সূরা—এই সাধারণ ধারা বর্ণনায় এসেছে। তবে এই পাঠ থেকে প্রতিটি সালাতে একমাত্র এভাবেই পড়তে হবে—এমন অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওয়াক্তভেদে কিরাআতের দীর্ঘতা ভিন্ন হতে পারে।
- মাগরিবে ছোট, ইশায় মাঝারি, ফজরে দীর্ঘ সূরা পাঠের নমুনা আছে।
- আবূ হুরাইরা (রাঃ) নবীজির সালাতের মিলকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
- সালাতের ইমামতি করতে ভারসাম্য ও অনুসরণ দুটোই দরকার।
