২/৭. অধ্যায়ঃ
সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি - সালাত শুরু করার দু’আসমূহ
সালাতের শুরুর দোয়া: তাওহীদ, ক্ষমা ও সুন্দর চরিত্রের আবেদন
বুলুগুল মারাম : ২৭০
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ২৭০
وَعَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ - رضي الله عنه - عَنْ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: أَنَّهُ كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ قَالَ: «وَجَّهْتُ وَجْهِي لِلَّذِي فَطَّرَ السَّمَوَاتِ» ... إِلَى قَوْلِهِ: «مِنْ الْمُسْلِمِينَ, اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ, أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ... » إِلَى آخِرِهِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌوَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: أَنَّ ذَلِكَ فِي صَلَاةِ اللَّيْلِ
‘আলী বিন আবী ত্বলিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন (রাতের বেলা) সালাতে দাড়াতেন তখন (তাকবীরে তাহরীমার পর) বলতেন- উচ্চারণঃ ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরযা হানিফাঁও ওয়া মা আনা মিনাল মুশরিকীন, ইন্না সালাতী, ওয়া নুসুকী, ওয়া মাহইয়ায়া, ওয়া মামাতী লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন, লা শরীকা লাহু ওয়া বিযালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা আনতাল মালিকু লা ইলাহা ইল্লা আনতা। আনতা রাব্বী ওয়া আনা আবদুকা, যালামতু নাফসী ওয়া‘তারাফতু বিযামবী ফাগফিরলী যুনুবী জামী'আন ইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা। ওয়াহদিনী লিআহসানিল আখলাকি লা ইয়াহদী লিআহসানিহা ইল্লা আনতা, ওয়াসরিফ আন্নী সাইয়িয়াহা, লা ইয়াসরিফু আন্নী সাইয়িয়াহা ইল্লা আনতা, লাব্বায়কা ওয়া সাদায়কা, ওয়ালখায়রু কুল্লুহূ বিয়াদায়কা, ওয়াশ-শাররু লাইসা ইলায়কা, আনা বিকা ওয়া ইলায়কা, তাবারাকতা ওয়া তা‘য়ালায়তা, আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলায়কা। একজন সত্যিকার ঈমানদার হিসাবে আমি মুখ ফিরাচ্ছি তাঁর দিকে যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। আমি আল্লাহর সঙ্গে কারো শরীক করি না। যথার্থই আমার সালাত (সালাত) এবং আমার ইবাদত, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু সবই জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তার কোন শরীক নেই। আমাকে এরূপ হুকুম করা হয়েছে এবং যারা আজ্ঞানুবর্তী হয়েছে আমি তাদের মধ্যে একজন। হে আল্লাহ! তুমি সৃষ্টি জগতের রব। তুমি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। তুমি আমার রব এবং আমি তোমার বান্দা। আমার নিজের আত্মার উপর অন্যায় করেছি এবং আমার গুনাহ শনাক্ত করতে পেরেছি। আমার সকল সীমালংঘন মাফ করে দাও, নিশ্চয়ই তুমি ব্যতীত আর কেউ আমার গুনাহ মাফ করতে পারে না। আমার চরিত্রের উৎকর্ষতার পথ নির্দেশ দাও, কারণ তুমি ব্যতীত অন্য কেউ উৎকর্ষের পথ নির্দেশ দিতে পারে না। আমার চরিত্রের পাপসমূহ থেকে আমাকে রক্ষা কর, কারণ, যথার্থই তুমি ব্যতীত আর কেউ আমাকে পাপ থেকে রক্ষা করতে পারে না। আমি তোমার সামনে দাড়িয়ে মিনতি করি। সকল ভাল তোমার হাতে, মন্দ তোমাকে ছুঁতে পারে না। আমি নিজেকে তোমার সামনে উপস্থাপন করছি, সম্পূর্ণভাবে তোমার কাছে। তুমি অতি পবিত্র অতি-মহিমাম্বিত। আমি তোমার কাছে মার্জনা চাই এবং তোমার নিকট অনুতপ্ত। - এর অন্য রিওয়ায়েতে আছে- রাত্রের সালাতে এ দুআটি পাঠ করতেন।” [৩০৫]
[৩০৫] মুসলিম ৭৭১, তিরমিযী ২৬৬, ৩৪২১, ৩৪২২, ৩৪২৩, নাসায়ী ৮৯৭, আবু দাউদ ৭৬০, ১৫০৯, ইবনু মাজাহ ৮৬৪, ১০৫৪, আহমাদ ৮০৫, ৯৬৩, দারেমী ১২৩৮, ১৩১৪
বুলুগুল মারাম হাদিস ২৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাতে দাঁড়ানোর সময়ের একটি দীর্ঘ দোয়া বর্ণিত হয়েছে। দোয়ায় তিনি আল্লাহর দিকে একনিষ্ঠভাবে মুখ ফেরানোর কথা বলেন, শিরক থেকে মুক্ত থাকার ঘোষণা দেন এবং বলেন, সালাত, ইবাদত, জীবন ও মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য। এরপর তিনি আল্লাহকে রব ও মালিক বলে স্বীকার করেন, নিজের ভুলের কথা মানেন এবং গুনাহ মাফ চান। দোয়ায় সুন্দর চরিত্রের পথ দেখানোর এবং মন্দ চরিত্র থেকে দূরে রাখার আবেদনও আছে। অন্য রিওয়ায়েতে এসেছে, এটি রাতের সালাতে পাঠ করতেন। হাদিসটি সালাতের ভেতরে বিনয়, তাওহীদ, তওবা ও চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে আল্লাহর একত্ব ও আত্মসমর্পণের ঘোষণা আছে।
- নিজের গুনাহ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া শেখা যায়।
- সুন্দর চরিত্রের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।
- রাতের সালাতে গভীর দোয়া ও বিনয়ের শিক্ষা পাওয়া যায়।
