২/৪. অধ্যায়ঃ
সালাত আদায়কারী ব্যক্তির সুতরা বা আড় - সালাত বিনষ্টকারী বিষয়সমূহের বর্ণনা
সুতরা বর্ণনায় শব্দের পার্থক্য: হায়িযা নারীর উল্লেখ
বুলুগুল মারাম : ২৩৩
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ২৩৩
وَلِأَبِي دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيِّ: عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- نَحْوُهُ, دُونَ آخِرِهِ. وَقَيَّدَ الْمَرْأَةَ بِالْحَائِضِ
আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তবে তাতে উক্ত হাদীসের শেষাংশ (কুকুরের উল্লেখ) নাই এবং তাতে নারীকে ‘হায়িযা (হায়িয শুরু হয়েছে এমন বয়সের) বিশেষণের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। [২৬৮]
[২৬৮] মারফূ হিসেবে সহীহ। আবূ দাঊদ ৭০৩; আবূ দাউদের শব্দসমূহ হচ্ছেঃ “(আরবী)” সলাতকে কর্তন (নষ্ট) করে দেয় হায়েযা নারী ও কুকুর। নাসায়ী (২/৬৪) ইবনু আব্বাস হতে হাদিসটিকে মারফূ’ ও মাওকূফ’ উভয় সূত্রেই বর্ণনা করেছেন।
বুলুগুল মারাম হাদিস ২৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, আবূ দাউদ ও নাসাঈতে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে আগের বিষয়ের অনুরূপ বর্ণনা এসেছে, তবে সেখানে উক্ত হাদিসের শেষাংশ নেই। আরও বলা হয়েছে, সেখানে নারীকে ‘হায়িযা’ অর্থাৎ হায়িয শুরু হওয়ার বয়সের নারী হিসেবে বিশেষিত করা হয়েছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা শব্দের সতর্ক পাঠের সঙ্গে যুক্ত। একই বিষয়ে একাধিক বর্ণনায় কিছু শব্দ বা অংশ ভিন্ন হতে পারে। এখানে শেষাংশ নেই, আবার নারীর বর্ণনায় একটি নির্দিষ্ট বিশেষণ আছে। তাই সুতরা ও মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রমের আলোচনা করতে হলে বর্ণনার সীমা মেনে চলা জরুরি। নিজের পক্ষ থেকে বাড়তি দাবি যোগ না করে, যা এসেছে সেটুকুই বলা নিরাপদ ও সঠিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই বিষয়ের বর্ণনায় শেষাংশ বাদ থাকতে পারে।
- এই বর্ণনায় নারীকে ‘হায়িযা’ বিশেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
- হাদিস বোঝার সময় শব্দের পার্থক্য লক্ষ্য করা দরকার।
- সুতরা সম্পর্কিত আলোচনায় নির্দিষ্ট বর্ণনার ভাষা মেনে চলা উচিত।
