২/৩. অধ্যায়ঃ
সালাতের শর্তসমূহ - সালাতে গলা-খাকড়ানি দেয়াতে সালাত নষ্ট হয় না
সালাতরত অবস্থায় গলা খাঁকারি: অনুমতির নীরব ইশারা
বুলুগুল মারাম : ২২৪
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ২২৪
وَعَنْ عَلَيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ لِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - مَدْخَلَانِ, فَكُنْتُ إِذَا أَتَيْتُهُ وَهُوَ يُصَلِّي تَنَحْنَحَ لِي. رَوَاهُ النَّسَائِيُّ, وَابْنُ مَاجَهْ
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সমীপে, দিনে দুটি সময় আমার উপস্থিতি ছিল। ফলে, যখন তাঁর (নফল) সালাত আদায় করার সময় আমি যেতাম তখন তিনি (অনুমতি জ্ঞাপক) গলা খোকড় (কাশির ন্যায় শব্দ) দিতেন। [২৫৮]
[২৫৮] এখানে বর্ণিত শব্দে হাদীসটি যঈফ। কিন্তু (আরবী) এর পরিবর্তে (আরবী) শব্দে বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আমি তাহাবীর ‘মুশকিলুল আসার’ গ্রন্থের তাখরজে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
বুলুগুল মারাম হাদিস ২২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু জানান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে তাঁর দিনে দুই সময় প্রবেশের সুযোগ ছিল। যখন তিনি এমন সময়ে যেতেন, যখন নবীজি নফল সালাত আদায় করছিলেন, তখন নবীজি তাঁর জন্য গলা খাঁকারি দিতেন। এখানে সালাতে ইশারা বা শব্দের মাধ্যমে কথা ছাড়া বোঝানোর একটি বর্ণনা আছে। হাদিসে শুধু এটুকুই এসেছে যে, সালাতরত অবস্থায় তিনি অনুমতির মতো একটি ইঙ্গিত দিতেন। তাই এই শিক্ষা থেকে বোঝা যায়, সালাতের আদব রক্ষা করে প্রয়োজনীয় বার্তা দেওয়া হতে পারে, তবে তা কথাবার্তা বা অপ্রয়োজনীয় শব্দে পরিণত করা উচিত নয়। মূল বিষয় হলো সালাতের নীরবতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতরত অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বাঁচা উচিত।
- প্রয়োজনে কথা ছাড়া ইঙ্গিতের মাধ্যমে বোঝানো যেতে পারে।
- নফল সালাতেও আদব ও মনোযোগ বজায় রাখা দরকার।
- নবীজির আচরণে কোমলতা ও শৃঙ্খলা একসঙ্গে দেখা যায়।
