২/৩. অধ্যায়ঃ
সালাতের শর্তসমূহ - সালাতে কম-বেশি হলে মুক্তাদী যা করবে
সালাতে ইমামকে সতর্ক করার নিয়ম: পুরুষের তাসবীহ, নারীর তাসফীক
বুলুগুল মারাম : ২২২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ২২২
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ, وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِزَادَ مُسْلِمٌ: فِي الصَّلَاةِ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ (ইমামের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য) পুরুষদের বেলায় তাসবীহ-সুবহানাল্লাহ বলা। তবে মহিলাদের বেলায় তাসফীক’ (এক হাতের তালু দিয়ে অন্য হাতের তালুতে মারা)। মুসলিমে সলাতের মধ্যে শব্দটি অতিরিক্ত আছে। [২৫৬]
[২৫৬] বুখারী ১২০৩; মুসলিম ৪২২
বুলুগুল মারাম হাদিস ২২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতের মধ্যে ইমামের দৃষ্টি আকর্ষণের সহজ নিয়ম বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পুরুষদের জন্য তাসবীহ অর্থাৎ ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা, আর নারীদের জন্য তাসফীক অর্থাৎ এক হাতের তালু দিয়ে অন্য হাতের তালুতে আঘাত করা। মুসলিমের বর্ণনায় ‘সালাতের মধ্যে’ কথাটি এসেছে, তাই বিষয়টি সালাতের অবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সালাতে কথা না বলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা দেওয়ার জন্য শরিয়ত সহজ পথ রেখেছে। সালাতে তাসবীহ ও তাসফীক—দুটি কাজই শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। তবে হাদিসে যতটুকু বলা হয়েছে, ব্যাখ্যাও ততটুকুর মধ্যেই রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে পুরুষ ইমামের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলতে পারে।
- সালাতে নারীর জন্য তাসফীক করার কথা হাদিসে এসেছে।
- সালাতে কথা না বলে ইঙ্গিতপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করা শেখানো হয়েছে।
- জামাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সালাতের গুরুত্বপূর্ণ দিক।
