২/২. অধ্যায়ঃ
আযান (সালাতের জন্য আহ্বান) - ফজরের পূর্বে আযানের বিধান
সাহরীর শেষ সময়: বিলাল ও ইবনু উম্মু মাকতুমের আযান
বুলুগুল মারাম : ১৮৯
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৮৯
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ, وَعَائِشَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ بِلَالًا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ, فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُنَادِيَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ»، وَكَانَ رَجُلًا أَعْمَى لَا يُنَادِي, حَتَّى يُقَالَ لَهُ: أَصْبَحْتَ, أَصْبَحْتَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِوَفِي آخِرِهِ إِدْرَاجٌ
ইবনু 'উমার ও আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তারা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, বিলাল তো বস্তুতঃপক্ষে রাতে (সুবহি সাদিকের পূর্বে) আযান দেয়। অতএব তোমরা পানাহার (সাহারী খাও) করতে থাকো যতক্ষণ না ইবনু উম্মু মাকতুম্ ফাজরের সালাতের আযান দেয়। তিনি ছিলেন অন্ধ তাই আসবাহতা, আসবাহতা (সকাল করে ফেললেন, সকাল করে ফেললেন) না বলা পর্যন্ত তিনি (ফাজরের) আযান দিতেন না।” [২২১] এ হাদীসের শেষাংশে কিছু ইদরাজ বা রাবীর কিছু বক্তব্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কথার সাথে সন্নিবেশিত হয়েছে।” [২২২]
[২২১] বুখারী ৬১৭; মুসলিম ১০৯২। শব্দবিন্যাস বুখারীর[২২২] হাদীসের শেষে রাবী কর্তৃক বর্ধিত অংশটুকু হচ্ছে: (আরবী)
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহরী ও ফজরের আযান সম্পর্কে খুব দরকারি শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, বিলাল (রাঃ) রাতে আযান দেন; তাই ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ) আযান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা খাও ও পান করো। বর্ণনায় আরও আছে, ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ) অন্ধ ছিলেন, তাই তাঁকে “সকাল হয়ে গেছে” বলা না হওয়া পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না। এখানে দুটি আযানের পার্থক্য বোঝানো হয়েছে—একটি রাতের, আরেকটি ফজরের সময়ের সঙ্গে যুক্ত। সাহরীর শেষ সময় বোঝার ক্ষেত্রে এই হাদিস খুব সরাসরি কথা বলে। তবে শেষে ইদরাজের কথা থাকায় বর্ণনার অংশগুলো সতর্কভাবে বুঝতে হয়। রোজাদারদের জন্য এই পার্থক্য জানা খুব দরকার, কারণ ভুল আযান বুঝে সাহরী ছেড়ে দিলে কষ্ট হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের আযান ও ফজরের আযানের মধ্যে পার্থক্য আছে।
- সাহরীর সময় শেষ বোঝার জন্য ফজরের আযান গুরুত্বপূর্ণ।
- হাদিসের শেষে ইদরাজের কথা থাকলে বর্ণনা সতর্কভাবে পড়া দরকার।
