২/২. অধ্যায়ঃ
আযান (সালাতের জন্য আহ্বান) - আযানের শব্দ দু’বার করে আর ইকামাতের শব্দ একবার করে
আযান ও ইকামতের নিয়ম: বিলাল (রাঃ)-এর আমল থেকে শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ১৮১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৮১
وَعَنْ أَنَسِ [بْنِ مَالِكٍ]- رضي الله عنه - قَالَ: أُمِرَ بِلَالٌ أَنْ يَشْفَعَ الْآذَانَ, وَيُوتِرَ الْإِقَامَةَ, إِلَّا الْإِقَامَةَ, يَعْنِي قَوْلَهُ: قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَلَمْ يَذْكُرْ مُسْلِمٌ الِاسْتِثْنَاءَوَلِلنَّسَائِيِّ: أَمَرَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - بِلَالًا
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বিলাল (রাঃ) যেন জোড়া বা্ক্যে ‘আযান’ ও বিজোড় বা্ক্যে ‘ইকামাত’ দেন (কাদাকামাতিস সালাহ) দু’বার। এভাবে (আযান- ইকামাত) দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছিল। তবে মুসলিমে ইল্লাল ইকক্বামাত তথা ‘ক্বাদা কামাতিস সালাত’ দু’বার বলতে হয়- কথার উল্লেখ করেননি। [২১০] নাসয়ীতে আছে, নাবি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলাল (রাঃ) কে এরূপ আদেশ করেছিলেন। [২১১]
[২১০] বুখারী ৬০৫; মুসলিম ৩৭৮[২১১] নাসায়ী ২/৩
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আযান ও ইকামতের বাক্যরীতি। এখানে আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে বিলাল (রাঃ)-কে আযান জোড়া বাক্যে দিতে এবং ইকামত বিজোড় বাক্যে দিতে আদেশ করা হয়েছিল। তবে “ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ” কথাটি দু’বার বলার কথা আলাদা করে উল্লেখ আছে। তাই আযান ও ইকামতের নিয়ম বুঝতে হলে হাদিসের ভাষাটাই ভালোভাবে দেখা দরকার। আযান হলো সালাতের জন্য প্রকাশ্য ডাক, আর ইকামত হলো সালাত শুরু হওয়ার কাছের ঘোষণা। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, ইবাদতের শব্দ ও পদ্ধতি নিজের মতো বানানো নয়; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শেখানো নিয়ম অনুসরণ করাই নিরাপদ পথ। তাই যারা আযান শেখেন বা শেখান, তাদের জন্য এই হাদিস শব্দগুলো গুনে গুনে শেখার গুরুত্বও মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযান ও ইকামতের বাক্যরীতিতে রাসূলের শেখানো নিয়ম মানা জরুরি।
- ইকামতের মধ্যে “ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ” বাক্যের আলাদা গুরুত্ব আছে।
- ইবাদতে শব্দের সংখ্যা ও ধরনও শেখানো আমলের অংশ হতে পারে।
