২/১. অধ্যায়ঃ
সালাতের সময়সমূহ - ফজর দু’প্রকার এবং উভয়ের মাঝে গুণগত ও হুকুমগত পার্থক্যের বর্ণনা
সুবহি সাদিক ও সুবহি কাযিব: ভোরের আলোর চিহ্ন বুঝার সহজ উপায়
বুলুগুল মারাম : ১৭০
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৭০
وَلِلْحَاكِمِ فِي حَدِيثِ جَابِرٍ - رضي الله عنه - نَحْوُهُ, وَزَادَ فِي الَّذِي يُحَرِّمُ الطَّعَامَ: «إِنَّهُ يَذْهَبُ مُسْتَطِيلًا فِي الْأُفُقِ» وَفِي الْآخَرِ: إِنَّهُ كَذَنَبِ السِّرْحَان
হাকিমে জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে ফজরে (সওমের নিয়াতে) পানাহার করা হারাম তার আলোক রশ্মি পূর্ব দিগন্তে বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে (যাকে সুবহি সাদিক্ব বলা হয়)। আর অন্য ফজরের আলোক রেখা নেকড়ে বাঘের লেজের মতো উৰ্দ্ধমুখী থাকে (যাকে সুবহি কাযিব বলা হয়)। [১৯৬]
[১৯৬] হাকিম, ১৯১; হাকিম বলেছেন হাদীসের সনদ সহীহ। জাহাবী বলেছেন। সহীহ। (আরবী) অর্থ নেকড়ে বাঘ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এ আলোক রশ্মিটা খুব বিস্তৃত ও লম্বা হবে না। বরং একটা খুঁটির মত আকাশের দিকে খাড়া থাকবে। এটা ইমাম সনয়ানীর অভিমত।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় দুই ধরনের ফজরের আলোর পার্থক্য আরও পরিষ্কার করা হয়েছে। যে ফজর সওমের জন্য খাবার হারাম করে, তার আলো পূর্ব দিগন্তে বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এটিই সুবহি সাদিক নামে পরিচিত। আর অন্য ফজরের আলোকরেখা নেকড়ের লেজের মতো উপর দিকে থাকে। এটিকে সুবহি কাযিব বলা হয়। এখানে খুব সহজ ভাষায় বোঝানো হয়েছে—সত্য ফজরের আলো আড়াআড়িভাবে দিগন্তে ছড়ায়, আর মিথ্যা ফজরের আলো উঁচু দিকে দেখা যায়। সেহরি, রোজা, ফজর সালাতের সময়—এসব বিষয়ে এই পার্থক্য জানা খুব দরকার। হাদিসটি আলোর ধরন দিয়ে সময় বোঝার একটি সুন্দর নির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সুবহি সাদিকের আলো পূর্ব দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে।
- সুবহি কাযিবের আলো উপরের দিকে রেখার মতো দেখা যায়।
- রোজার খাবার বন্ধের সময় বুঝতে সত্য ফজর জানা দরকার।
- ফজর সালাতের সময় নির্ধারণে ভোরের আলোর ধরন গুরুত্বপূর্ণ।
