১৫/০. অধ্যায়ঃ
মৃত্যুর সময় সকল দাসকে মুক্ত করার বিধান যখন ঐ দাসগুলোই তার একমাত্র সম্পদ
মৃত্যুর সময় দাসমুক্তি: লটারি, সীমা ও ন্যায়ের শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ১৪২৬
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৪২৬
وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَجُلًا أَعْتَقَ سِتَّةً مَمْلُوكِينَ لَهُ, عِنْدَ مَوْتِهِ, لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرَهُمْ, فَدَعَا بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَجَزَّأَهُمْ أَثْلَاثًا, ثُمَّ أَقْرَعَ بَيْنَهُمْ, فَأَعْتَقَ اثْنَيْنِ, وَأَرَقَّ أَرْبَعَةً, وَقَالَ لَهُ قَوْلًا شَدِيدًا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন এক ব্যক্তি মৃত্যুর সময় তার ছয়টি দাস মুক্ত করে দেন। ঐ দাসগুলা ছাড়া তার আর কোন সম্পদ ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে ডেকে পাঠালেন ও তিন ভাগে বিভক্ত করে দিলেন। তার পর প্রত্যেক ভাগের উপর লটারি দিয়ে এর ভিত্তিতে দু’টো দাসকে মুক্ত করে দিলেন ও চারজনকে দাস করে রাখলেন। এবং তাকে (এদের মনিবকে) কঠোর কথা বললেন। [১৫৩৫]
[১৫৩৫] মুসলিম ১৬৬৮, তিরমিযী ১৩৬৪, নাসায়ী ১৯৫৮, আবু দাউদ ৩৯৬১, ইবনু মাজাহ ২৩৪৫, আহমাদ ১৯৩২৫, ১৯৫৭, দারেমী ১৫০৬।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি মৃত্যুর সময় তার ছয়টি দাস মুক্ত করে দেন, অথচ তাদের ছাড়া তার আর কোনো সম্পদ ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাসদের ডেকে তিন ভাগে ভাগ করেন, তারপর লটারির মাধ্যমে দুইজনকে মুক্ত করেন এবং চারজনকে দাস অবস্থায় রাখেন। তিনি ওই ব্যক্তিকে কঠোর কথাও বলেন। এই ঘটনা দাসমুক্তির ফজিলত কমায় না; বরং দেখায়, মৃত্যুর সময় সম্পদ নিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও সীমা, ন্যায় ও অন্য অধিকার বিবেচনা করতে হয়। এখানে লটারির ব্যবহারও ন্যায্য ভাগ নির্ধারণের একটি পদ্ধতি হিসেবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃত্যুর সময় সম্পদ নিয়ে সিদ্ধান্তে সীমা ও ন্যায়ের দিক থাকে।
- সব সম্পদ একভাবে ব্যয় করলে অন্য অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- লটারির মাধ্যমে পক্ষপাতহীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দৃষ্টান্ত আছে।
- নেক কাজেও শরীয়তের সীমা মানা জরুরি।
