১৪/২. অধ্যায়ঃ
দাবি এবং প্রমাণ - উভয় পক্ষের মধ্যে কে লটারী করার সুযোগ পাবে তা নির্ণয়ের জন্য লটারী করা প্রসঙ্গে
কসমে লটারি: বিবাদের সময় শৃঙ্খলার শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ১৪০৯
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৪০৯
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - عَرَضَ عَلَى قَوْمٍ الْيَمِينَ, فَأَسْرَعُوا, فَأَمَرَ أَنْ يُسْهَمَ بَيْنَهُمْ فِي الْيَمِينِ, أَيُّهُمْ يَحْلِفُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদল লোককে নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলফ করতে বললেন। তখন (কে আগে হলফ করবে এ নিয়ে) হুড়াহুড়ি শুরু করে দিল। তখন তিনি কে (আগে) হলফ করবে, তা নির্ধারণের জন্য তাদের নামে লটারী করার নির্দেশ দিলেন। [১৫১৭]
[১৫১৭] বুখারী ২৬৭৪, আবূ দাউদ ৩৬১৬, ইবনু মাজাহ ২৩২৯, আহমাদ ৯৯৭৪, ১০৪০৮।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, একদল লোককে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলফ করতে বললেন। তখন কে আগে হলফ করবে, তা নিয়ে তারা দ্রুত এগিয়ে গেল বা হুড়াহুড়ি শুরু করল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন তাদের মধ্যে লটারি করার নির্দেশ দিলেন, যাতে ঠিক হয় কে আগে কসম করবে। এই বর্ণনা ছোট হলেও বিচার-ফায়সালায় শৃঙ্খলা, ন্যায্যতা ও ঝগড়া কমানোর শিক্ষা দেয়। যখন একাধিক ব্যক্তি একই বিষয়ে আগ্রহী বা তর্কে জড়িয়ে পড়ে, তখন নিরপেক্ষ পদ্ধতি প্রয়োজন হয়। লটারি এখানে পক্ষপাত কমানোর একটি পদ্ধতি হিসেবে এসেছে। তাই কসম, সাক্ষ্য ও দাবি—সবকিছুতে শান্ত থাকা এবং নিয়ম মানা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিবাদের সময় হুড়াহুড়ি না করে শৃঙ্খলা রাখা দরকার।
- একাধিক দাবিদারের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ পদ্ধতি কাজে আসতে পারে।
- কসমের বিষয়েও নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
- বিচার যেন পক্ষপাত ও বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত থাকে।
