১৪/১. অধ্যায়ঃ
স্বাক্ষ্য প্ৰদান এবং গ্রহণ - যাদের সাক্ষ্য গ্ৰহণ করা যায় না
সাক্ষ্য গ্রহণের শর্ত: খিয়ানাত ও হিংসা থেকে সতর্কতা
বুলুগুল মারাম : ১৪০১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৪০১
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا تَجُوزُ شَهَادَةُ خَائِنٍ, وَلَا خَائِنَةٍ, وَلَا ذِي غِمْرٍ عَلَى أَخِيهِ, وَلَا تَجُوزُ شَهَادَةُ الْقَانِعِ لِأَهْلِ الْبَيْتِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোন খিয়ানাতকারী, খিয়ানাতকারিনীর ও কোন হিংসুকের সাক্ষ্য তার মুসলিম ভাইয়ের বিপক্ষে এবং কোন চাকরের সাক্ষ্য তার মালিকের পরিবারের পক্ষে গ্রহন করা জায়িয হবে না। [১৫০৯]
[১৫০৯] আবূ দাউদ ৩৬০০, আহমাদ ৬৮৬০, ৬৯০১।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাক্ষ্য গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, খিয়ানাতকারী পুরুষ বা নারী, হিংসুক ব্যক্তি এবং ঘরের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত চাকরের সাক্ষ্য নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। মূল শিক্ষা হলো, আদালত বা বিচার-ফায়সালায় শুধু কথা বললেই সাক্ষ্য গ্রহণ করা যায় না; সাক্ষীর আমানতদারি, পক্ষপাতহীনতা ও স্বার্থের সম্পর্কও দেখা দরকার। মিথ্যা সাক্ষ্য, খিয়ানাত ও হিংসা মানুষের হক নষ্ট করতে পারে। তাই মুসলিম ভাইয়ের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিতে হলে সত্য, ন্যায় ও ভয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এই হাদিস সাক্ষ্য দেওয়ার আদব, নিরপেক্ষ বিচার এবং মানুষের অধিকার রক্ষার বিষয়ে সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাক্ষ্য দিতে হলে আমানতদার ও নিরপেক্ষ হওয়া দরকার।
- খিয়ানাত ও হিংসা বিচারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
- পারিবারিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকলে সাক্ষ্য প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
- মানুষের হক রক্ষায় সত্য সাক্ষ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
