১৪/১. অধ্যায়ঃ
স্বাক্ষ্য প্ৰদান এবং গ্রহণ - সাক্ষ্য দানের জন্য আহবান না করা হলেও যারা সাক্ষ্য দেয়, তাদের প্রতি নিন্দা করা প্রসঙ্গে
উত্তম যুগের মর্যাদা: সাক্ষ্য, আমানত ও মানতের সতর্কতা
বুলুগুল মারাম : ১৪০০
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৪০০
وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ خَيْرَكُمْ قَرْنِي, ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ, ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ, ثُمَّ يَكُونُ قَوْمٌ يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ, وَيَخُونُونَ وَلَا يُؤْتَمَنُونَ, وَيَنْذِرُونَ وَلَا يُوفُونَ, وَيَظْهَرُ فِيهِمُ [ص: 428] السِّمَنُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমার যুগের লোকেরাই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। অতঃপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা, অতঃপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা। অতঃপর তোমাদের পর এমন লোকেরা আসবে, যারা সাক্ষ্য দিতে না ডাকলেও তারা সাক্ষ্য দিবে, যারা খিয়ানাত করবে, আমানত রক্ষা করবে না। তারা মান্নত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না। তাদের মধ্যে মেদওয়ালাদের প্রকাশ ঘটবে। [১৫০৮]
[১৫০৮] বুখারী ৩৬৫০, ৬৪২৮, ৬৬৯৫, মুসলিম ২৫৩৫, তিরমিযী ২২২১, ২২২২, আবু দাউদ ৪৬৫৭, আহমাদ ১৯৩১৯, ১৯৩৩৪, ১৯৪৫১
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো উত্তম যুগ এবং পরবর্তী মানুষের কিছু অবক্ষয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তাঁর যুগের লোকেরা সর্বোত্তম, তারপর নিকটবর্তী যুগ, তারপর তার পরের যুগ। এরপর এমন লোক আসবে যারা ডাকা না হলেও সাক্ষ্য দেবে, খিয়ানত করবে, আমানত রক্ষা করবে না, মানত করবে কিন্তু পূরণ করবে না, এবং তাদের মধ্যে মেদওয়ালাদের প্রকাশ ঘটবে। এখানে সাক্ষ্যের বিষয়ে আগের হাদিসের সঙ্গে একটি ভারসাম্য দেখা যায়: সত্য সাক্ষ্য মূল্যবান, কিন্তু অযথা বা দায়িত্বহীন সাক্ষ্য নিন্দনীয় হতে পারে। হাদিসটি আমানত, মানত, সত্যবাদিতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেয়। মুসলিমের চরিত্র শুধু কথায় নয়; আমানত রক্ষা ও অঙ্গীকার পূরণেও প্রকাশ পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজির যুগ ও পরবর্তী উত্তম প্রজন্মের বিশেষ মর্যাদা আছে।
- আমানত রক্ষা করা মুসলিম চরিত্রের বড় অংশ।
- মানত করলে তা পূরণে সতর্ক থাকা দরকার।
- সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সত্য, প্রয়োজন ও দায়িত্ববোধ জরুরি।
