১৪/১. অধ্যায়ঃ
স্বাক্ষ্য প্ৰদান এবং গ্রহণ - সাক্ষ্য প্রদানের জন্য আহবান করার পূর্বেই যারা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়, তাদের প্রশংসা করা প্রসঙ্গে
উত্তম সাক্ষী: সত্য কথা বলতে এগিয়ে আসার শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ১৩৯৯
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৩৯৯
عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِ الشُّهَدَاءِ? الَّذِي يَأْتِي بِشَهَادَتِهِ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلَهَا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদেরকে উত্তম সাক্ষীগনের সংবাদ দেব না কি? (অবশ্যই দেব) তারা হচ্ছে, সাক্ষ্য প্রদানের জন্য আহ্বান করার আগেই যারা সাক্ষ্য দেয়ার জন্য উপস্থিত হয়। [১৫০৭]
[১৫০৭] মুসলিম ১৭১৯, তিরমিযী ২২৯৫, ২২৯৭, আবু দাউদ ৩৫৯৬, ইবনু মাজাহ ২৩৬৪, আহমাদ ১৬৫৯২, ১৬৫৯৯, মালেক ১৪২৬।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৯৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো উত্তম সাক্ষীর পরিচয়। নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, উত্তম সাক্ষী হলো সে, যাকে সাক্ষ্যের জন্য ডাকার আগেই সে সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হয়। এখানে উদ্দেশ্য হলো সত্য গোপন না করা এবং হক প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা। কোনো মানুষের অধিকার, বিচার বা ফায়সালা যদি সত্য সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে, তাহলে সত্য জানা ব্যক্তি চুপ করে থাকলে অন্যায় হতে পারে। তবে এই হাদিসকে মিথ্যা, অপ্রয়োজনীয় বা প্রদর্শনমূলক সাক্ষ্যের অনুমতি হিসেবে নেওয়া যাবে না। সরাসরি বার্তা হলো: সত্য সাক্ষ্য দরকার হলে তা দিতে সাহসী হতে হবে। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সাক্ষীর সততা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সত্য সাক্ষ্য গোপন করা উচিত নয়।
- হক প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন হলে সাক্ষী এগিয়ে আসতে পারে।
- সাক্ষ্য দিতে সততা ও আল্লাহভীতি দরকার।
- মিথ্যা বা বাড়তি কথা নয়, সত্য সাক্ষ্যই মূল্যবান।
